রাজধানীর পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় দুই সাংবাদিক ও পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করেন। তারা টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আইন বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম মুরগিটোলা এলাকায় থাকেন। ভাড়া বাসার পানির লাইন মেরামতের জন্য তিনি বাড়িওয়ালাকে টাকা দিয়েছিলেন। কাজ শেষ হলে প্লাম্বার মাইকেল আবার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান আজহারুল। তখন আজহারুলের জুতা নিয়ে চলে যান মাইকেল। জুতা ফেরত চাইতে গেলে দুজনের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।
আজহারুলের অভিযোগ, এ সময় বাড়িওয়ালার ছেলে আশিক ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি তাকে (আজহারুল) মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায়। খবর পেয়ে আজহারুলের সহপাঠী ও বন্ধুরা ঘটনাস্থলে যান। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীর সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংঘর্ষ-মারামারি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গে-ারিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতিতে আশিককে মারধরের চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা। তখন ছত্রভঙ্গ করতে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ। পুলিশের লাঠিপেটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে আছেন লিমন ইসলাম ও অপূর্ব রায়। তারা দুই গণমাধ্যমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। এর প্রতিবাদে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড়ে বিক্ষোভ দেখান। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এলাকায় দীর্ঘ সময় উত্তেজনা বিরাজ করে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শিক্ষার্থীরা সরে যান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। উল্টো শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ডিএমপির ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মীর মুহাসীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলামের মুরগিটোলার মেস থেকে একজোড়া জুতা চুরি যাওয়াকে কেন্দ্র করে রাত ১টার দিকে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। শিক্ষার্থীরা বাঁশ নিয়ে পুলিশকে ধাওয়া দিতে আসেন। তখন পুলিশ আত্মরক্ষায় লাঠিপেটা করে। পুলিশ পরে মাইকেল এবং আশিকুর রহমান আশিক নামের দুজনকে আটক করেছে। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাঠিপেটার ঘটনা নিয়ে এই এডিসি বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের হেফাজত থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশকে লাঠিপেটা করতে হয়েছে। এ ঘটনায় পাঁচজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।’

