ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণ

যুবলীগের দুজন ২ দিনের রিমান্ডে

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:২১ এএম

ঢাকার অদূরে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রার সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি সাবেক যুবলীগ নেতা মো. নুরুল ইসলাম (৫২) ও যুবলীগ কর্মী মো. সজীবের (৩২) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন। কোর্ট পরিদর্শক কামাল হোসেন দুই দিনের রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে ওই দুই আসামিকে তোলা হলে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন বলে জানান ওসি কামাল হোসেন।

গত সোমবার রাতে সাভার পৌর এলাকার তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির পদযাত্রা অনুষ্ঠানের সমাবেশ স্থলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে ভোররাতে সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে, গত সোমবার দিবাগত রাতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এরপরই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে এনসিপির মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দলের আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে পৌঁছান।

নেতারা মঞ্চে ওঠার কিছুক্ষণ আগে হঠাৎ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সমাবেশস্থল অন্ধকার হয়ে পড়ে। পরে রাত ৯টা ৪২ মিনিটে নেতাদের বক্তব্য চলাকালে মঞ্চ থেকে ১০-১৫ ফুট সামনে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে চারদিক সাদা ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। এই ঘটনায় চারজন আহত হন, যাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এজাহারে দাবি করা হয়েছে, অজ্ঞাতনামা আসামিরা এনসিপির নেতা ও সাধারণ শ্রোতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

এদিকে, ঘটনা তদন্তে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান ও সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি ইন্টেলিজেন্স) নূর মোহাম্মদ।