× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করার অপচেষ্টা রুখবো

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:৪৬ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করার  অপচেষ্টা রুখবো

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি যেকোনো অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র রুখে দিতে জাতি প্রস্তুত রয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন শুধু একটি ক্ষমতার পরিবর্তন ছিল না, এটি ছিল রাষ্ট্র সংস্কার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক চূড়ান্ত বিস্ফোরণ। এই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করার জন্য দেশি-বিদেশি যেকোনো অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র রুখতে হবে।  গতকাল রাজধানীর মহাখালীর রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন লে. জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহ হিল আজমী, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর, রাওয়া কার্যনির্বাহী সদস্য মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ, লে. কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশীদ আলম, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) হারুনুর রশিদ ভূঁইয়া। ‘ফিরে দেখা ২০২৪’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন রাওয়ার চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল হক।  অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধা আহত আমান উল্লাহ, শহিদ আসাদুল্লাহর বাবা মহিউদ্দিনসহ অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তার বক্তব্যের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তরুণ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের মতো হাজারো শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ‘নতুন বাংলাদেশ’ কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দলের নয়, এটি এ দেশের সর্বস্তরের জনগণের। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। সশস্ত্র বাহিনী জনগণের আকাক্সক্ষাকে সম্মান জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার প্রক্রিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শক্তির পতন হলেও তাদের স্বার্থান্বেষী মহল এখনো অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে জনগণের আস্থা ও সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের যৌথ প্রতিরোধে সেই চক্রান্ত সফল হতে দেওয়া হবে না।

রাওয়া ক্লাবের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, দেশ পুনর্গঠনে তরুণ প্রজন্মের অদম্য সাহসের সঙ্গে প্রবীণদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সমন্বয় প্রয়োজন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং ফ্যাসিবাদের অবশিষ্টাংশ দূর করতে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুচিন্তিত পরামর্শ ও মেধা কাজে লাগানোর তাগিদ দেন তিনি। জুলাইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে একটি সমৃদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাওয়া ক্লাবকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর সমন্বয়ের বিকল্প নেই : অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিরাচরিত সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে  প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বেসামরিক প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে সুদৃঢ় সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীকে আরও গণমুখী এবং পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, বর্তমান যুগে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা শুধু সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাইবার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ এবং তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে দক্ষ জনবল তৈরি এবং দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও দেশীয় প্রযুক্তি খাতের মধ্যে একটি সুশৃঙ্খল নেটওয়ার্ক বা কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীকে পরিণত করতে কাজ করে যাচ্ছে। যেকোনো দুর্যোগ, সংকট ও জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনী যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, সেই ধারা অক্ষুণœ রাখতে হবে। মাঠ পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সমন্বয় আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!