গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে ঠেকাতে জোরেশোরে মাঠে নেমেছেন একই দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম শহীদ রঞ্জু। আবার গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আরেক নেতা মোস্তফা মহসিন।
এদিকে জাতীয় পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধার ওই দুইটি আসন থেকে নির্বাচন করছেন। তার পক্ষের নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের সিদ্ধান্তের বাইরে বিদ্রোহী হয়ে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। দুই দলছুট নেতা নিজেদের আখের গোছাতে এবং দলে ভাঙন সৃষ্টি করতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মহাসচিবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
তবে বিদ্রোহী দুই নেতার দাবি, ফার্স্ট লেডি রওশন এরশাদের খুব কাছের মানুষ ছিলেন তারা এবং দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ কারণে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
ফুলছড়ি উপজেলা জাপার সভাপতি শফিউল ইসলাম বলেন, গোলাম শহীদ রঞ্জু দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেনি। দল গোছাতে ও দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং তিনি ছিলেন কোনো ব্যক্তির ইন্ধনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জাপায় ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছেন। বরং জাতীয় পার্টি তার সব কর্মকা-ে অসন্তুষ্ট।
এদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, সাঘাটায় জাপাকে সামনে এগিয়ে নিতে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন তিনি। দলে তার ভূমিকার কথা মাঠ পর্যায়ের অনেকেই মনে রেখেছেন। বরং ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই আসনের প্রতি কেন নজর দিলেন তা বুঝতে পারছেন না। এ নিয়ে জাপায় অশান্তি শুরু হয়েছে। তার কারণে সাঘাটা-ফুলছড়িতে জাপা এখন দুই ভাগে বিভক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গোলাম শহীদ রঞ্জু ও মোস্তফা মহসিনকে গতকাল শুক্রবার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন থেকে তারা জাপার কোনো নেতা বা কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না বলেও জানানো হয়।
জানতে চইলে গোলাম শহীদ রঞ্জু বলেন, তিনি জাপার কেন্দ্রীয় নেতা। এ আসনে জাপার প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে বঞ্চিত করা হয়েছে। তিনি এ অন্যায় মেনে নিতে রাজি নন। তার দাবি, এই আসনে কার বাক্সে ভোট বেশি পড়বে, সেটা তার জানা আছে। এই আসনে জাপার নেতাকর্মী তৈরি করেছি, অথচ দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো না। কাজেই আমার জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করার বিষয়টি ফেসবুকে দেখেছি। কিন্তু আমি স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাঠে কাজ করছি। দল কি সিন্ধান্ত নিলো- তা আমার দেখার বিষয় নয়।’
গাইবান্ধা-১ আসনে জাপার বহিষ্কৃত ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তফা মহসিন বলেন, আমি তো স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নয়। আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও আমি নির্বাচনি মাঠ ছাড়ছি না। বরং আমাকে বহিষ্কার করার কারণে শুধু সুন্দরগঞ্জ নয়, গাইবান্ধার সাত উপজেলার জাপার নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দলের অনেক নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে যাবে, শুরু হবে কলহ।
মাঠ পর্যায়ে ভোটারদের মধ্যে ভোটের আগে জাপার এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। গজারিয়া ইউনিয়নের ফারুক হোসেন বলেন, আমরা জাতীয় পার্টির ভোটার। দীর্ঘদিন ধরে লাঙল প্রতীকের পক্ষে কাজ করছি বিনা স্বার্থে। আমরা চাই, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ভোটারদের মন জয় করে আবারও সামনে আসবে এবং মানুষের মন জয় করতে ভূমিকা রাখবে।
এ বিষয়ে জাপা মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি

