ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

অফিসে বসেই এলজিইডির প্রকৌশলীর ঘুষ গ্রহণ ভিডিও ভাইরাল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৭:০০ এএম

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেনের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। দুই মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি গত রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, দাপ্তরিক টেবিলে বসেই এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষের টাকা নেওয়া নিয়ে দরকষাকষি করছেন মো. ইমরান হোসেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এক ঠিকাদার তাকে ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডেল দেন, যার পরিমাণ আনুমানিক ৫০ হাজার টাকা ধারণা করা হচ্ছে। তবে দাবি করা টাকার পরিমাণ কম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে টাকার বান্ডেলটি একাধিকবার ঠিকাদারের দিকে ছুড়ে দেন। পরে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে তিনি তা গ্রহণ করে নিজের প্যান্টের বাম পকেটে রেখে দেন। সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এ ধরনের ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি রাস্তার কাজের বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ওই ঠিকাদার টাকা দিচ্ছিলেন। কেউ ভিডিও করছে তা বুঝতে পারিনি। অফিসে বসে এভাবে টাকা নেওয়া আমার ভুল হয়েছে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও মো. ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও রহস্যজনক কারণে তিনি এখনো সদর উপজেলা কার্যালয়েই কর্মরত রয়েছেন।

নেত্রকোনা সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান জানান, ভিডিওটির বিষয়ে তিনি অবগত রয়েছেন এবং বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’