ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৩:২২ এএম

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। বাকি সময়েও স্বল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয়রা জানান, দিন-রাতে মিলিয়ে টানা ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক। কখনো বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। এতে ঘরোয়া কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীরা।

উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো ছিল। কিন্তু বর্তমানে কয়েক দিন ধরে টানা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বাস্তবে দিনে প্রায় ১৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম আহমদ বলে, ২১ এপ্রিল থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু। কিন্তু দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটে সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। রাতে অন্তত এক-দুই ঘণ্টা টানা বিদ্যুৎ থাকলে কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়া যেত।

একই অভিযোগ করেন বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দিনের বেলায় বিদ্যুৎ থাকেই না, সন্ধ্যার পর এলেও কিছুক্ষণ পর আবার চলে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনে বা ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয় না। অভিযোগ জানালেও তাৎক্ষণিক সাড়া মেলে না। এ পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। এদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষও সমস্যার কথা স্বীকার করেছে। ধর্মপাশা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শুধু মধ্যনগর নয়, পুরো অঞ্চলেই একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ সময় লোডশেডিং থাকছে। তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না, এতে ভোগান্তি বাড়ছে।