আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের লাখ লাখ মানুষ ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এবারের ঈদযাত্রায়ও সাভারের বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে তীব্র যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চলমান ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ সরু হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালক, যাত্রী ও সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত এবং বাইপাইল থেকে আবদুল্লাহপুর সড়কের উত্তরবঙ্গগামী লেনে নির্মাণকাজ চলছে। কোথাও কোথাও সড়কে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। আবার বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে নির্মাণসামগ্রী ও ভারী যন্ত্রপাতি। ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে এবং সামান্য চাপেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। বিশেষ করে বিকেলে শিল্পকারখানা ছুটির সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। বাইপাইল মোড়ে আশুলিয়া হয়ে ঢাকার আবদুল্লাহপুর, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী বাস, ট্রাক, লেগুনা ও অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপর এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া ইঞ্জিনচালিত রিকশার অবাধ চলাচল এবং যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের কারণেও বাড়ছে যানজট। এতে ৩০ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। ঢাকা থেকে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ১৭ থেকে ২০ জেলার মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম প্রধান পথ হচ্ছে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ ঘিরে এই পথে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহনচালকদের ভাষ্য, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক পোশাকশ্রমিক বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। ঈদ উপলক্ষে তারা বাস ও অন্যান্য পরিবহন রিজার্ভ করে বাড়ি ফেরেন। ফলে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যানবাহন যুক্ত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। যানজট নিরসনে পুলিশের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নিরাপদ সড়ক চাই কমিটির সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি জি এম মিন্টু।
শ্রমিক নেতা তুহিন চৌধুরী বলেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় পোশাকশ্রমিকদের দীর্ঘ যানজট ঠেলে ও বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতে হতে পারে।
বাইপাইল ট্রাফিক পুলিশ বক্সের টিআই রেজওয়ান বলেন, চলমান ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ এবারও ঈদে ঘরমুখী মানুষের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে ঈদযাত্রা নির্বিঘœ করতে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, যানজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে বাড়তি নজরদারি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। অন্যদিকে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ঈদের সময় চলমান নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।
তবু চলমান নির্মাণকাজ, সড়কের বেহাল অবস্থা এবং বিকল্প সড়কের অভাবে এবারের ঈদযাত্রা কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

