ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সেফটিক ট্যাঙ্কির বিষাক্ত গ্যাসে দুই নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুন ৪, ২০২৬, ০৬:৩৫ এএম

বরগুনার আমতলীতে একটি নবনির্মিত ভবনের সেফটিক ট্যাঙ্কিতে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে দুই নির্মাণশ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আমতলী পৌর এলাকার একে স্কুলসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেনÑ উপজেলার হলদিয়া গ্রামের আজিজ হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল হাওলাদার (৩৫) এবং বেতমোর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে জাফর হাওলাদার (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা মো. ইউসুফের নির্মাণাধীন ভবনের সেফটিক ট্যাঙ্কির সেন্টারিং খোলার কাজ চলছিল। এ সময় জাহিদুল হাওলাদার ট্যাঙ্কির ভেতরে নামলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাকে উদ্ধারের জন্য জাফর হাওলাদার ট্যাঙ্কির ভেতরে নামলে তিনিও অচেতন হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ট্যাঙ্কির ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাব কমিয়ে মুখ ভেঙে দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মশিউর রহমান জানান, ট্যাঙ্কির ভেতরে নামার পরপরই দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। নিহত জাফর হাওলাদারের ভগ্নিপতি রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ভবন মালিকের অসচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আবু হানিফ বলেন, সেফটিক ট্যাঙ্কির ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্রমিকরা শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজ পরিচালনার আগে গ্যাসের প্রভাব কমানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. লুনা বিনতে হক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।