চাঁপাইনবাবগঞ্জের রানিনগরে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে দিনভর নদীপাড় পাহারা দিয়েছেন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা। গত সোমবার রানিনগরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ নদীপাড়ে অবস্থান নেন। এর আগে সকালে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল সদর উপজেলার আলাতুলী ইউনিয়নের রানিনগর এলাকায় পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলন করতে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দলের সদস্যরা নদী ও স্থলপথে এসে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বাধা দিলে তাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে বাধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে এসিল্যান্ড ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনে কয়েক দফায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নদীর তীরে বাঁধের এলাকায় বসতি গড়ে তুলেছেন তারা। ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু এরপরও কয়েক হাজার বিঘা ফসলি জমি, বসতবাড়ি এবং কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী রক্ষা বাঁধের কাছ থেকে বারবার বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্রামবাসীরা বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় জীবন দিয়ে হলেও পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি ইকরামুল হোসাইন জানান, বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। পরে এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন