চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গাজীপুর মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব ঘটনায় ৩ হাজার ২১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানÑ জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ছয় মাসে মহানগরীতে ২০টি হত্যাকা-, ৭টি ডাকাতি, ২৮টি ছিনতাই, ৮১২টি মাদক সংক্রান্ত এবং ৬০টি অস্ত্র মামলাসহ মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশি অভিযানে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়াও অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানান কমিশনার। তিনি বলেন, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি যে শক্তি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত ও তদন্তে শনাক্তসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জিএমপি কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অপরাধ, সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপরাধ বা শৃঙ্খলা বিঘœকারী কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, মো. বেলায়েত হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

