ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

উদ্বোধনের দিনই সেতুতে ফাটল

ভেঙে ফের নির্মাণের নির্দেশ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি সেতু নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরপরই সেতুর চার কোণার চারটি উইংয়ে (প্রোটেকশন পিলার) ফাটল দেখা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এমন পরিস্থিতিতে নড়েচড়ে বসেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ; ত্রুটি ধরা পড়ায় ঠিকাদারকে ওই চারটি উইং ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বোর্ডেরহাট এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ মিটার প্রস্থের সেতুটির নির্মাণকাজ শেষে গত ২০ জুন বিকেলে জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু উদ্বোধনের দিনই সেতুর চারটি উইংয়ে ফাটল দেখা দেয়। এতে জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয় এবং স্থানীয়রা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন। এরপর গত রোববার সকাল থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুরোনো অবকাঠামো অপসারণের কাজ শুরু করেছে।

উপজেলার দৈখাওয়া কলেজ থেকে ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের বুড়ির বাজার পর্যন্ত ৯ দশমিক ৩ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার এবং চারটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন ঠিকাদার গোলাম মাওলা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুরো প্রকল্পেই নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে আগে আপত্তি জানালেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি, উল্টো ঠিকাদার তাদের মামলার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদার গোলাম মাওলা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে হাতীবান্ধা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের না জানিয়েই ঈদের ছুটির সময় সেতুর কাজ শেষ করে তা চলাচলের জন্য খুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে এলজিইডির নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি পুনরায় উইং নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন।’

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম জানান, সেতুর মূল কাঠামো থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত হয় যে নির্মাণে ত্রুটি বা অনিয়ম হয়েছে, তবে পুরো সেতু ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হবে। এ ছাড়া তদন্তে এলজিইডির কোনো কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিং কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও পুরো প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।