বাম্পার ফলনেও মুখে হাসি নেই ঝিনাইদহের শৈলকুপার পেঁয়াজ চাষিদের। ভালো দাম পাওয়ার আশায় ঘরে তোলা হাজার হাজার মণ পেঁয়াজ এখন পচে নষ্ট হচ্ছে। বাজারে বিক্রি করতে না পেরে এবং সংরক্ষণের অভাবে পচে যাওয়া পেঁয়াজ ডোবা, নালা ও খালে ফেলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা।
খুলনা বিভাগের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা শৈলকুপায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে চাহিদা না থাকা এবং পচন ধরায় চরম লোকসানে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে আমদানিকৃত নাসিক জাতের বীজ ও কিছু হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজে বেশি পচন ধরেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষক ও কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শৈলকুপা অঞ্চলে ভারতীয় নাসিক ও হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের ব্যাপক চাষ হয়েছে। দেখতে বড় ও আকর্ষণীয় হওয়ায় এসব পেঁয়াজের ফলন বেশি হলেও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না।
কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই শ্রমিক সংকট, সার ও কীটনাশকের সংকটে পড়তে হয়েছে তাদের। কৃত্রিম সংকটের কারণে ডিএপি সার বেশি দামে কিনতে হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর উপজেলায় ১২ হাজার ৮৩৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮০৫ হেক্টর বেশি। এ বছর উপজেলায় মোট ২ লাখ ৬৫ হাজার টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে।
তবে উৎপাদন বেশি হলেও কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। দেশি জাতের পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি হলেও নাসিক জাতের পেঁয়াজ ১০০ থেকে ২০০ টাকা মণ দামেও কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক ব্যবসায়ী।
মনোহরপুর গ্রামের কৃষক রাজন হোসেন জানান, দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়িতে তোলার কয়েক দিনের মধ্যেই পেঁয়াজে পচন ধরে। তাঁর ঘরে থাকা ২০০ মণের বেশি পেঁয়াজ এখন খালের পানিতে ফেলে দিতে হয়েছে। একই পরিবারের চার কৃষকের প্রায় ৬০০ মণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে।
কৃষক অন্তর হোসেন জানান, তিনি ছয় বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। উৎপাদিত ৬০০ মণের মধ্যে প্রায় ২০০ মণ পেঁয়াজ পচে গেছে। বাকি পেঁয়াজ নিয়েও তিনি শঙ্কায় রয়েছেন। ধলহরাচন্দ্র গ্রামের এক কৃষকও পচে যাওয়া ১৫০ মণ পেঁয়াজ ডোবায় ফেলে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী লিয়াকত জোয়ার্দার জানান, তিনি ৬০০ মণ পেঁয়াজ কিনেছিলেন। এর অর্ধেকের বেশি পচে গেছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজও বিক্রির অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পুঁজি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, অসময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টি, নি¤œমানের বীজ এবং হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজে পচন বেশি দেখা দিয়েছে।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ভরা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, জমিতে রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং হাইব্রিড ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে পচন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, এসব জাতের পেঁয়াজ সংরক্ষণের বিষয়ে কৃষকদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন