সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর ঘুড়কা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নওশের আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ শতাংশ হারে অর্থ আদায়, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রতিকার ও তার অপসারণ দাবি করে ইউনিয়ন পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া অভিযোগপত্রে ইউপি সদস্যরা দাবি করেন, বিগত সরকারের পতনের পর স্থানীয় কিছু নেতাকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে নওশের আলী অবৈধভাবে প্যানেল চেয়ারম্যানের পদ দখল করেছেন। এরপর থেকেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ৩০ শতাংশ হারে উৎকোচ বা কমিশন দাবি করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ঠিকাদাররা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরবর্তীতে তাদের কোনো প্রকল্প না দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন তহবিলের ১ শতাংশ অর্থের কোনো ধরনের হিসাব না দিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। নিয়মিত সভা না করে বিভিন্ন ভুয়া ভাউচার ও খরচ দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাট, গর্ভবতী নারীদের ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা করে ঘুষ গ্রহণ, গ্রাম আদালতে বিচার করার নামে অর্থ বাণিজ্য এবং ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নেও বড় ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে প্যানেল চেয়ারম্যান নওশের আলী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সব কাজের জন্য ইউপি সদস্যদের কেন ডাকতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই।’
এ বিষয়ে ইউএনও আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

