ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

না ফেরার দেশে আফগান ক্রিকেটের অগ্রদূত শাপুর জাদরান

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:১৮ এএম

আফগানিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ভিত্তিপ্রস্তর এবং শুরুর দিককার বাঁহাতি পেসার শাপুর জাদরান আর নেই। ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নেওয়ার পর গত দুই বছর ধরে এক বিরল ও প্রাণঘাতী রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। অবশেষে অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধ শেষে গতকার মঙ্গলবার ভারতের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তারকা ক্রিকেটার। তার বয়স হয়েছিল ৩৮ বছর। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তার ভাই এবং জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার দৌলত জাদরান। ভাইয়ের এমন চলে যাওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না জানিয়ে তিনি লেখেন, প্রিয় বন্ধু ও ভাইকে হারিয়ে তিনি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছেন এবং এই ক্ষতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার এমন অকালপ্রয়াণে আফগানিস্তানের পুরো ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পারিবারিক ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, শাপুর জাদরান মূলত ‘হেমোফ্যাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিওসাইটোসিস’ (এইচএলএইচ) নামক একটি বিরল ও মারাত্মক রোগাক্রান্ত ছিলেন, যা মানুষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে অতিরিক্ত সক্রিয় করে তোলে। উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে তাকে ভারতের নয়াদিল্লির একটি হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। মাঝে চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও পরে আবার অবনতি হওয়ায় তাকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে জীবনের শেষ ম্যাচটি হেরে যান এই লড়াকু পেসার।

২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকে আফগান ক্রিকেটের উত্থানের পেছনের গল্পে শাপুর জাদরান ছিলেন অন্যতম এক কারিগর। জাতীয় দলের জার্সিতে ৪৪টি ওয়ানডে এবং ৩৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে বল হাতে মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার করেছেন তিনি। ২০২০ সালে দেশের হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা জাদরান বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন, খেলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল)। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) এক শোকবার্তায় শাপুর জাদরানকে আফগান ক্রিকেটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকারী এক পথপ্রদর্শক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। মাঠের ভেতরে তার আক্রমণাত্মক বোলিং ও অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতা দেশটির একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটারকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং আফগান ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে আজীবন অনুপ্রেরণা জোগাবে।