ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

শূন্য হাতে বিদায়ের রাতে রোনালদো

২০১৬ সালের ইউরো জয় আমার কাছে বিশ্বকাপেরই সমান

মাঠে ময়দানে ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:২০ এএম

আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ বিশ্বকাপ থেকে শিরোপা জয়ের অপূর্ণতা নিয়েই বিদায় নিলেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে শূন্য হাতে ফেরার এই চরম বেদনার মধ্যেও নিজেকে ব্যর্থ মানতে নারাজ ৪১ বছর বয়সি পর্তুগিজ মহাতারকা। তার মতে, ২০১৬ সালে পর্তুগালকে প্রথমবারের মতো ইউরোপ-সেরা করার যে গৌরবময় অর্জন, সেটি তার কাছে বিশ্বকাপ জয়ের সমান মর্যাদার। বিদায়লগ্নে পাঁচবারের ব্যালন ডি-অর বিজয়ী এই ফরোয়ার্ড জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন পূরণ না হলেও ইউরো বিজয় তার জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি এবং এই অনন্য কীর্তি চিরকাল তার হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে আসর থেকে ছিটকে যায় পর্তুগাল। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে স্প্যানিশ তারকা মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলে পর্তুগিজদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচ শেষে অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে পর্তুগাল অধিনায়ক নিশ্চিত করেন, এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তবে পর্তুগালের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছেন উল্লেখ করে আল নসর তারকা বলেন, তিনি বিবেকের কাছে পুরোপুরি নির্ভার থেকে বিদায় নিচ্ছেন। ফুটবলে হার-জিত থাকবেই এবং এখন তার ফুটবল ছাপিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়ার এবং নতুন দিন নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপ অধরা থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের অবদান ও গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ার নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন এই কিংবদন্তি। রোনালদো মনে করিয়ে দেন, তার নেতৃত্বে মাঠে নামার আগে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপাই ছিল না; অথচ তার হাত ধরেই দলটি ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং পরে ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগসহ মোট তিনটি বড় শিরোপা ঘরে তুলেছে। বিদায়টা আশানুরূপ না হওয়ায় কিছুটা খারাপ লাগলেও মাঠের পারফরম্যান্স ও দলের লড়াই করার মানসিকতা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। দেশের জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ক হিসেবেই রাজসিকভাবে বিশ্বকাপের মঞ্চকে বিদায় জানালেন সিআরসেভেন।