ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্পের তামাবিল অংশের ৪ লেন নির্মাণ নিয়ে তুঘলকি কাণ্ড ঘটে চলেছে। রীতিমতো শুরু হয়েছে হরিলুট। টাকা কামাইয়ের মহোৎসবে পরিণত হয়েছে এই প্রকল্প। সেখানে সরকারের স্থানীয় পর্যায়ের কর্তা থেকে শুরু করে জরিপকারী কর্তৃপক্ষ, দালাল, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কেউই বাদ যাচ্ছেন না। এই প্রকল্পকে অনেকেই টাকা কামাইয়ের মেশিনে পরিণত করেছেন। দুই হাতে লুটেপুটে নিচ্ছেন কাড়িকাড়ি টাকা। বিশেষ করে সিলেট-তামাবিল অংশে বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, ডিজিটাল নকশা তৈরি, জমির শ্রেণি নির্ধারণ, ভবনের ফাউন্ডেশন পরিবর্তন, মাপে বাড়তি দেখানো এবং ক্ষতিপূরণে প্রলোভন দেখিয়ে হাজার কোটি টাকা হাতানো হচ্ছে। কমিশন বাণিজ্যে নাম লিখিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তারাও। এ নিয়ে রীতিমতো বড় ধরনের অনিয়ম ও কোটি টাকার কমিশন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে।
আলোচনা শুরু এ মেগা প্রকল্পের সিলেটের প্রবেশমুখ লালাবাজার অংশ থেকে। যেখানে সিলেট-ঢাকা ৬ লেন প্রকল্পের কাজ চলমান। এরইমধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত অধিগ্রহণ প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা প্রস্তুতের কাজ শেষে প্রকৃত ভূমিদাতাদের সিংহভাগ তালিকা প্রস্তুত করে বুঝিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কমিশন বাণিজ্য শুরুর পর এ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সিলেটের পূর্বাঞ্চল তামাবিল অংশে। প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থানীয়দের জনকল্যাণে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের লক্ষ্যে ‘তামাবিল সড়ক অধিগ্রহণ সদর-জৈন্তা-গোয়াইনঘাট কল্যাণ পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন গঠন করেছেন স্থানীয়রা। সংগঠনটি এ নিয়ে দেন দরবার করছে প্রশাসনের সঙ্গে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্র মতে, পুরো এই প্রকল্পের ভূমি জরিপ ও ডিজিটাল নকশা তৈরি করেছে বেসরকারি সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)। প্রকল্পের বিভিন্ন স্থানে তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নকশা প্রণয়ন এবং জমি মালিকদের তথ্য সংগ্রহের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও সিলেট-তামাবিল অংশে এসে সেই অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। তামাবিল সড়ক অধিগ্রহণ সদর-জৈন্তা-গোয়াইনঘাট কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা ওলিউর রহমান, সদস্য সচিব পারভেজ আহমদসহ বিভিন্ন জন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
এসব অভিযোগের একাধিক ভিডিও ফুটেজ, কল রেকর্ড, অভিযুক্ত সিসিডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে জমির মালিকদের বৈঠকের স্থিরচিত্র দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের হাতে এসেছে। এসব তথ্য-উপাত্তে জমির মালিকদের সঙ্গে কর্তাদের যোগাযোগের প্রমাণ মেলে এবং হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস রেকর্ড ও টেক্সট ম্যাসেজে ঘুষের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কমিশন কেলেঙ্কারিতে সরকারি কর্তারা জড়িত থাকায় প্রকল্পের কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে তারা নকশা তৈরি ও ভবন ফাউন্ডেশনে নয়ছয় করছেন। ফলে প্রকল্পের কাটামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এটি প্রকল্পে বিভিন্নভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এই অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সিসিডিবির কর্তারা কয়দিনেই কোটিপতি হয়েছেন। পাল্টে গেছে তাদের জীবনযাত্রার ধরন।
সূত্র বলছে, সিসিডিবির টিম লিডার আতিকুল ইসলাম, সিলেট-তামাবিল অংশের ম্যানেজার ফজলে রাব্বি খান, বহিরাগত ঠিকাদার স্বপন সরকার, সানোয়ার হোসেন এবং সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। তাদের মধ্যে গোপন চুক্তির মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, যদি ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়ে, অতিরিক্ত টাকা ফেরত দিতে হবে।
স্থানীয়দের দাবি, এভাবে মূলত সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। এটি প্রকল্পের কাজকে দীর্ঘায়িত করতে ভূমিকা রাখছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মহাসড়কের কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সিসিডিবি মেগা প্রকল্পের ঢাকা থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত অধিগ্রহণে ডিজিটাল নকশা প্রস্তুত করে প্রকৃত ভূমিদাতাদের সিংহভাগের তালিকা বুঝিয়ে দিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। তারপর থেকে কাজ চলছে জোরেশোরে। তবে সিলেট-তামাবিল অংশের ৪ লেন প্রকল্পে অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের ডিজিটাল নকশা প্রস্তুতের সময়ে শুরু হয় কালক্ষেপণ। মূলত ঢাকা-সিলেট রুটে সবার দৃষ্টি থাকায় সেটি যতটা না স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে করা হয়েছে, এখানে এসে ততটাই বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিয়েছে সিসিডিবি। এরইমধ্যে জমির ম্যাপ, পর্চা, মালিকানার তথ্য সংগ্রহ শেষ। কিন্তু দেখা যায়, যেসব ব্যক্তির জমি ৪ লেন সড়কে সংযুক্ত হয়েছে, তাদের বাসা-বাড়ি, ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের বোকা বানিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার মিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। এই কাজের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিসিডিবির টিম লিডার আতিকুল ইসলাম। তিনি তার শ্যালক সিলেট-তামাবিল অংশের ম্যানেজার ফজলে রাব্বি খান, ঠিকাদার পরিচয়দানকারী বহিরাগত স্বপন সরকার, সানোয়ার ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কাননগো শ্রীপদ দেবের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে করছেন হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য।
সূত্র জানায়, স্বপন সরকার এই প্রকল্পের কোনো দায়িত্বে না থাকলেও গাজীপুরের এই ব্যক্তিকে ঠিকাদার বানিয়ে জমি, দোকান ও ভবন মালিকদের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার চুক্তি করা হচ্ছে। এই অবৈধ কাজের মূলে রয়েছে ম্যানেজার ফজলে রাব্বি খান।
এদিকে এমন কয়েকটি চুক্তির কপি এসে পৌঁছেছে এ প্রতিবেদকের হাতে। তাতে দেখা যায়, প্রত্যেকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট হারে টাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যে টাকা সরকার থেকে পাবেন জমির মালিক। কিন্তু পরবর্তিতে সেখানে শর্ত উল্লেখ করা হয়, চুক্তির হারের বাইরে বেশি টাকা সরকার থেকে এলে সেই অবশিষ্ট টাকা তাদের (চুক্তিকারীকে) ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন। সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তর থেকে নিজেদের পাওনা টাকা তোলার ক্ষেত্রে ভোগান্তি থেকে রক্ষা এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে টাকা পেতে অবৈধ পন্থা জেনেও তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন। তারা দ্রুত ও ভোগান্তি ছাড়া সরকারি দপ্তর থেকে টাকা এনে হাতে পৌঁছে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিনিময়ে চুক্তির চেয়ে যতবেশিই টাকা তারা সরকার থেকে আনেন না কেন তার সবই তাদের দিয়ে দিতে হবে। চুক্তির অতিরিক্ত টাকার মালিকানা দাবি করতে পারবেন না বাসা-বাড়ি, দোকান কোটার মালিকরা। এভাবে কমিশন বাণিজ্যের চুক্তি করে জমির ধরন ও ভবনের ফাউন্ডেশন পরিবর্তন করে সরকারের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মহোৎসবে জড়িয়ে পড়েছেন কর্তারা। কমিশনের মাধ্যমে তাদের এই কাজে সায় দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের ভূমি শাখার সংশ্লিষ্ট কর্তারাও। বিষয়টি জানলেও কেউ কথা বলছেন না। ফলে সেটি এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে অপেন সিক্রেটে পরিণত হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা জানায়, সিলেটের ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্পের জন্য যৌথ তদন্ত শেষ হয় গত বছরের প্রথম দিকে। পরবর্তীতে যৌথ তালিকাও চূড়ান্ত করে সরকারপক্ষ। এরপর সিলেটের তৎকালীন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা তমালিকা পাল ২৭ জুলাই-২০২৫ সাত দিনের সময় দিয়ে একটি গণবিজ্ঞাপ্তি জারি করেন।
এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের পর তালিকা নিয়ে আর কোনো আপত্তি জানানো যাবে না, এমনকি এরপর আর কোনো স্থাপনাও তোলা যাবে না। কিন্তু এই নির্দেশনা আমলে নিচ্ছে না কেউই। সেখানে পরবর্তীতেও দালান তুলে তালিকাভুক্ত করার দাবি তোলা হচ্ছে। এমনকি দালালদের সহায়তায় চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। আর্থিক সুবিধা নিতে বাইপাস এলাকায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কাননগো শ্রীপদ দেব নিজেই যেনতেনভাবে একটি ভবন নির্মাণ করেছেন। এই ভবনের ভিডিও ক্লিপ রয়েছে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের হাতে।
সিলেট জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সিসিডিবির একটি সূত্রের তথ্য মতে, তামাবিল রোডের সিলেট বাইপাস থেকে তামাবিল পর্যন্ত দুই পাশে এক হাজারেরও বেশি বাসা-বাড়ি রয়েছে। এখানে প্রায় ২০টির মতো বাজার রয়েছে, যেগুলোর সড়ক অংশে দোকান কোটা রয়েছে আরও হাজার ছয়েক। সবচেয়ে বেশি দোকান-বাসা পড়েছে শহরতলীর সুরমা গেট বাইপাস থেকে হরিপুর বাজার পর্যন্ত। এসবের অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে সিসিডিবির দালালরা গিয়ে ধরনা দিয়েছে। তারা প্রত্যেকের কাছে ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকা চেয়ে চুক্তি করেছে। অনুসন্ধানে এই সিন্ডিকেটের মূল দালাল স্বপন সরকার, সানোয়ার হোসেন, রিমনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেন সিসিডিবি বটেশ্বর শাখার ম্যানেজার ফজলে রাব্বি খান। জরিপের দায়িত্বে থাকা সাজ্জাদ, পলাশ, তাপসসহ আরও কয়েকজন আছেন এই সিন্ডিকেটে। তবে এতে স্থানীয় জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট প্রশাসনের কেউ জড়িত নয় বলে দাবি করে সূত্রটি। যদিও সিলেট জেলা প্রশাসনের সাবেক সার্ভেয়ার মাহবুব, বর্তমান কাননগো শ্রীপদ দেব জড়িত। তারা দালাল দিয়ে প্রায় বাজারে নতুন নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, যাতে বেশি টাকা আদায় করা যায়।
বিগত সরকারের শাসনমানলে এই প্রকল্পে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেকেই সক্রিয় ছিলেন। সরেজমিনে এর সত্যতাও মেলে। এ সময় দেখা যায়, চিকনাগুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন বটেশ্বর বাজারে ‘শিপু লজ’ নামে একটি পাঁচ তলা বাসা গড়ে তুলেছেন। প্রকল্পের আগে এটি বহুতল ছিল না। এই বাসায় স্বপন সরকার ও রাব্বিদের নিয়ে দালালদের একাধিক বৈঠক হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন আফতাব উদ্দিন নিজেই। স্বপন সরকার স্থাপনা অধিগ্রহণে বটেশ্বর থেকে হরিপুর পর্যন্ত স্থানীয় মুহাম্মদ আলী, রইছ আলী, জুয়েল আহমদ ডালিম, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুর রশিদ, রহমত আলী, আব্দুল মতিন, কবির খাসহ অসংখ্য মানুষের সঙ্গে চুক্তি করে টাকা দিয়েছেন বলে সূত্র দাবি করেছে। তাদের অনেকের কাছ থেকে চুক্তি করে অগ্রিম এক থেকে দুই লাখ করে টাকা নিয়েছে স্বপন-সরকার সিন্ডিকেট।
স্থানীয় সূত্র মতে, বিরাইমারা, আলু বাগান, নলজুরী এবং তামাবিল এলাকায় খাসজমি বেশি হওয়ায় দালালও সেখানে বেশি। অর্ধেক জমির মালিকের সঙ্গে সিসিডিবির চুক্তি করিয়ে দিয়েছে দালালরা। দালালদের মধ্যে রয়েছেন সিসিডিবির অফিস সহকারী শিপদ, সিসিডিবির বটেশ্বর অফিসের পলাশ, শিতিস, সাজ্জাদ, তাপস, রফিক, সাবেক কাননগো মাহবুব, রিমন, অকিল উদ্দিন, সানির নামও উঠে এসেছে।
তামাবিল সড়ক অধিগ্রহণ সদর-জৈন্তা-গোয়াইনঘাট কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা ওলিউর রহমান বলেন, ‘গোপন সূত্রে আমরা চুক্তির খবর পেয়েছি। কিন্তু যারা করেছেন তার তা স্বীকার করতে চাইছেন না। অসংখ্য মানুষের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের এবং সিসিডিবির লোকজন চুক্তি করেছেন এবং এখনো করছেন।’
তিনি জানান, এই সংগঠনের মাধ্যমে তামাবিল রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ন্যায্য অধিকার পেতে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন।
চুক্তির বিষয়টি নিয়ে ওঠা অভিযোগ সিসিডিবির সিলেট-তামাবিল অংশের ম্যানেজার ফজলে রাব্বী খান সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, ‘দেখুন এগুলো আমাদের কাজ না। কেউ যদি আমাদের নাম ব্যবহার করে কারো সঙ্গে চুক্তি করে বা কোনো ব্যক্তি লাভের আশায় করেন, সেই দায় তো সিসিডিবির বা আমার নয়। আমরা এসব নিয়ে কিছুই জানি না। কেউ চুক্তি করতে গেলে জেনে বুঝে সতর্ক থাকা দরকার।’ ভিডিও ফুটেজ ও চুক্তিপত্র সম্পর্কে বলেন, ‘এগুলো মিথ্যা। এসব স্বার্থান্বেষীদের কাজ।’
আরেক অভিযুক্ত স্বপন সরকার বলেন, ‘এই প্রকল্পের সাইটে আমি যাই না। আমি এ নিয়ে কিছু জানিও না।’
চুক্তির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি রাতে ফোন দেবেন বলে আর কিছু বলতে চাননি।
চুক্তির বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কাননগো শ্রীপদ দেব প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। আর টাকার বিষয়টি জেলা প্রশাসক দেওয়ার মালিক আর কেউ না।’ তিনি বলেন, ‘আমার নাম কেউ বললে সেটি ষড়যন্ত্রের অংশ হবে। অনেকেই সুবিধা নিতে চাইছে, হয়তো যারা কেউ সেই সুবিধা নিতে পারছে না, তারা আমাদের জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে।’ অপরাধীদের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
নতুন যোগ দেওয়া সিলেট জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এডিসি) শিল্পী রাণী মোদক বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। এ নিয়ে কিছু জানি না বা আমার কাছে কেউ অভিযোগও দেয়নি। আমাদের কেউ জড়িত থাকলে এবং প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’
এ বিষয়ে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিসিডিবির কাজ হচ্ছে ডিজিটাল নকশা, জমির পর্চা ও প্রকৃত মালিকের তথ্য সংগ্রহ করা। টাকা পাইয়ে দেওয়ার কোনো চুক্তি তারা করতে পারে না। এই দায়িত্বও তাদের নয়। যদি করে তাহলে সেটা অবৈধ। নকশা ২০২৩ সালে প্রণয়ন হয়ে জমাও হয়ে গেছে। এখন তার পরিবর্তনের সুযোগ নেই।’
তার মতে, সিলেট তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আলো। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপনা ও ভূমি অধিগ্রহণ করা হলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে সরকারের। বাড়তি সুবিধা নেওয়ারও সুযোগ নেই, দেওয়ারও নেই। উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের স্বার্থ, ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা যাতে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সঠিক ক্ষতিপূরণ পায় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।


-20251114202751.webp)

