নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী ইপিজেড এলাকায় ঝুট ব্যবসার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় আলোচিত সন্ত্রাসী সোহাগ (৩৪) প্রায় ১০ মাস আত্মগোপনে থাকার পর যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগরের ফুফাতো ভাই।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে তাকে দুই সহযোগী—আব্দুল জলিল (৩২) ও মো. পারভেজসহ (২৫) আটক করা হয়। আটক তিন জনই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত বছরের মার্চ মাসে আদমজী ইপিজেড এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের সময় সোহাগকে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত আট জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় এবং আগুন দেওয়া হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সোহাগ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বারিক বলেন, ‘ভোরে কদমতলীর একটি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোহাগকে তার দুই সহযোগীসহ আটক করা হয়েছে। অভিযানের সময় তারা মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। তাদের কাছ থেকে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। তবে আটক তিন জনের দেহ তল্লাশি করে ১২০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ইয়াবার ওজন প্রায় ১২ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৬ হাজার টাকা। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে।’
ওসি আরও বলেন, ‘সোহাগের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মাদক ও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তার সহযোগী জলিল ও পারভেজের বিরুদ্ধেও মাদক ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। অস্ত্র সংক্রান্ত বিষয়ে সোহাগ কিছুই স্বীকার করেননি। তবে ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা আদালতে রিমান্ড চাইব। পরবর্তীতে অস্ত্র উদ্ধার হলে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ আদমজী ইপিজেড এলাকায় ইউনিভার্সেল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয় এবং তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে সোহাগকে প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করলেও সোহাগ পালিয়ে যান এবং প্রায় ১০ মাস ধরে গ্রেপ্তার এড়িয়ে চলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন