ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে সালিশ বৈঠকে হবি মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া নারুই ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের মৃত রহমতের ছেলে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সালিশে বৈঠকে সবার মাঝখানে হবি মিয়াকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন এসে প্রথমে গামছা দিয়ে তার চোখ এবং দড়ি দিয়ে হাত বাঁধেন। তারপর তাকে মাটিতে বসিয়ে তার বাঁধা হাত পায়ের কাছে নিয়ে হাত ও পায়ের ভেতর পাইপ ঢুকানো হয়। এ সময় আরেকজন এসে তাকে মাটিতে শুইয়ে দেন। পরবর্তীতে আরেকজন একে বোতল দিয়ে তাকে পানি পান করান।
পরবর্তীতে দু’জন হবি মিয়াকে চেপে ধরে রাখেন এবং আরেকজন লাঠি দিয়ে পায়ের নিচে আঘাত করতে থাকেন। এরপর দুজন মিলে তার পায়ের তালুতে আঘাত করতে থাকেন। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, হাত-পা বাধা মাদক বিক্রেতা অভির ওপর একজনের পর একজন লাঠি দিয়ে তার পায়ের তালুতে সজোরে আঘাত করছেন। সে সময় ওই মাদক বিক্রেতা ‘মাগো, বাবাগো’ বলে চিৎকার করেছে। পরে মাদক সেবন ও বিক্রি করবেন না এমন শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নারুই গ্রামের বাসিন্দা সর্দার মোকাররম, মোহসিন, তাজু ও হানিফ মেম্বারসহ আরও কয়েকজন মিলে হবি মিয়াকে সালিশ বৈঠকে নির্যাতন করেন বলে স্থানীয়রা জানায়।
এদিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই দৃশ্য দেখে ওবায়দুর রহমান বাদল নামের স্থানীয় এক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট মন্তব্য করেছেন, ‘বেশ ভালো করেছেন। যারা পেটাচ্ছে তাদের সাধুবাদ জানাই। পুলিশ ঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে, এভাবেই মাদক দূর করতে হবে। আর এ কারণেই নবীনগর পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন ভালো আছে।’
অন্যদিকে মানিক হায়দার এ রকম জঘণ্য দৃশ্য দেখে লিখেছেন, ‘কেউ অপরাধী হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কখনো উচিত হবে না। গ্রামের সর্দারের নামে জালেমরা অসহায় মানুষকে নির্যাতন করতে জানে ঠিকই, কিন্তু সঠিক বিচার করতে জানে না। এসব কথিত সর্দারদের তাই দ্রুত বিচারের আওতায় আনা উচিত।’
স্থানীয়রা বলেন, গ্রামে মাদক বিক্রেতা দিন দিন বেড়ে চলেছে। মাদক বিক্রয়ের কারণে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংস হচ্ছে এবং গ্রামে চুরির ঘটনাও বাড়ছে। যুবসমাজকে মাদক থেকে বাঁচাতে মাদক বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যেন গ্রামে কেউ মাদক বিক্রি ও সেবন করতে না পারে।
এ ব্যাপারে ওই ইউনিনের চেয়ারম্যান আল ইমরানের সাথে যোগাযোগের বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নবীনগর থানার শিবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনে জড়িতরা পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, হবি মিয়া এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তবে এভাবে সালিশ বৈঠক করে তাকে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এ ব্যাপারে ওসি মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, কেউ নির্দয়ভাবে মাদক বিক্রেতাসহ কোনো ব্যক্তিকেই প্রকাশ্যে এভাবে হাত-পা বেঁধে পেটানোর মতো জঘণ্য কাজ করতে পারে না। এখন পর্যন্ত ভিকটিমের কাছ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পায়নি, পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন