যৌতুকের দাবির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ঘরছাড়া হন শিউলী খাতুন (৪০)। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও স্বামী বা পরিবারের কেউ তার খোঁজ নেননি। আদালতে মামলা করেও পাননি কোনো প্রতিকার। এখন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশে একটি পানির ট্যাংকের নিচে ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সংসার ও সন্তানদের কাছে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন এই নারী।
জানা গেছে, শিউলী খাতুন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী গ্রামের আশরাফুল আলমের মেয়ে। তার স্বামী মহাসিন আলী। শিউলীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী তার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। এর মধ্যে ৮০ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা দিতে না পারায় তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার আগের দুই সন্তানকে স্বামী নিজের কাছে রেখে দেন।
শিউলী খাতুন বলেন, দুই বছর ধরে আমি এখানে আছি। পেটে সন্তান থাকা অবস্থায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঝিনাইদহ আদালতে মামলা করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। আমি আমার সংসার ও সন্তানদের ফিরে পেতে চাই। প্রশাসন উদ্যোগ নিলে হয়তো আবার পরিবারে ফিরতে পারব।
প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া সবকিছু উপেক্ষা করে পানির ট্যাংকের নিচেই ছোট্ট শিশুকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ভাঙা তালপাতার পাখা দিয়ে মেয়েকে বাতাস করে ঘুম পাড়ানোর দৃশ্য পথচারীদেরও নাড়া দেয়।
শিউলী জানান, চুয়াডাঙ্গায় অবস্থানকালে পুলিশ মাঝে মধ্যে তাকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিউলী খাতুনকে সেখানে থাকতে দেখছেন তারা। পুলিশ মানবিক কারণে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছে। তারা চান, প্রশাসনের উদ্যোগে শিউলী তার স্বামী-সন্তানের কাছে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করুক।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন শিউলী খাতুন। একইসঙ্গে স্থানীয়রাও মনে করছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও মানবিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন