টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে ভোলাজুড়ে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে ভোলা সদর, মনপুরা, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলের মাঠ। এতে হাজারও মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ, বন্ধ হয়ে গেছে অনেক এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।
সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায়। উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক ও কৃষিজমি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে। কোথাও কোথাও তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানি জমে থাকায় ঘর থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে গেছে।
কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর ও কলাতলী চরের নিম্নাঞ্চল, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর, হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট ও চরযতিনের নিম্নাঞ্চল এবং সোনারচর গ্রামের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। এসব এলাকায় স্থানীয়দের চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
হাজিরহাট ইউনিয়নের আমজাদ, সোলায়মান ও সানু মাঝি, দক্ষিণ সাকুচিয়ার ইলিয়াছ, উত্তর সাকুচিয়ার শাহরিয়ার ও নোমান এবং মনপুরা ইউনিয়নের সেরাজল ও আকবর অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখেই বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে একাধিক স্লুইসগেট অকেজো থাকায় খাল দিয়ে দ্রুত পানি নামতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি লোকালয়ে আটকে থেকে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। তারা দ্রুত স্লুইসগেট সংস্কার এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দৌলতখান উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মীর গিয়াসউদ্দিন বলেন, উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের দুই হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি বড় পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বিস্তৃত হয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর উদ্যোগ, অকেজো স্লুইসগেট মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন