জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্ব আইনগতভাবে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রকে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বর্তমান আইন সংশোধন করে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি লক্ষ্য অর্জন অনেকটাই সহজ হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাজধানীর বিএমএ ভবনে ‘বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন: অগ্রগতি, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সাংবাদিক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) কর্মশালার আয়োজন করে। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমের ৩০ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উত্তরাধিকার ও ভোটাধিকারসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা, সুশাসন ও বাজেট প্রণয়নেও নিবন্ধনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বক্তারা জানান, বর্তমানে দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ, যা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গড়ের তুলনায় কম। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা অর্জনে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
আলোচনায় বলা হয়, বিদ্যমান ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪’ অনুযায়ী জন্ম ও মৃত্যুর তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব পরিবারের ওপর বর্তায়। তবে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে এসব প্রতিষ্ঠানে জন্ম নেওয়া দেশের প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুকে সহজেই নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেক দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করে শতভাগ নিবন্ধনের লক্ষ্য অর্জন করেছে।
জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, শতভাগ নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই।
ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আইন শক্তিশালী করার পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং আন্তঃখাত সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা জরুরি।
ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশের হেড অব অনলাইন (বাংলা) মো. মনির হোসেন লিটন বলেন, নিবন্ধন প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও জনভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়মিত গণমাধ্যমে তুলে ধরলে নীতি পরিবর্তনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞার কো-অর্ডিনেটর মাশিয়াত আবেদিন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন