রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ১০:২২ এএম

জুতা তৈরি করে ভাগ্য বদলেছেন রাঙ্গুনিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা সুজন

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২৫, ১০:২২ এএম

তরুণ উদ্যোক্তা সুজন রবি দাশ। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

তরুণ উদ্যোক্তা সুজন রবি দাশ। ছবি: রূপালী বাংলাদেশ

রাঙ্গুনিয়ার তরুণ উদ্যোক্তা সুজন রবি দাশ (৩৬) জুতা সেলাই থেকে জুতা তৈরি করে নিজ ভাগ্য বদলেছেন। অসুস্থ বাবার চিকিৎসার খরচ, মা ও ভাই-বোনের ভরণ-পোষণ সব মিলিয়ে সংসারের অভাব মেটাতে তিনি নিজেই বেছে নেন জুতা সেলাইয়ের কাজ। বাড়ির পাশে একটি দোকান ঘর নিয়ে প্রথমে জুতা সেলাই শুরু করেন, পরে নিজেই গড়ে তোলেন জুতা তৈরির কারখানা।

সুজন রবি দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৪ নং মরিয়মনগর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের গঙ্গা রবি দাশের ছেলে। পারিবারিক অচ্ছলতার কারণে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর পঞ্চম শ্রেণীতে লেখাপড়া শেষ করেন। উপার্জনক্ষম বাবার অসুস্থতার কারণে অল্প বয়সে সংসারের হাল ধরতে হয় তাকে।

২০০৪ সালে মরিয়মনগর ইউনিয়নের বিয়ান বাজারে একটি দোকান ঘর নিয়ে জুতা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। দীর্ঘদিন চট্টগ্রামের একটি জুতার কারখানায় কাজ করা বাবার কাছ থেকে তিনি ফাঁকে ফাঁকে জুতা তৈরির কলা-কৌশল শিখেন।

২০১১ সালে বাবার কাছ থেকে সব কলা-কৌশল আয়ত্ব করার পর, ২০১২ সালে নিজে জুতা তৈরির কাজ শুরু করেন। একটি বব মেশিন, একটি পেসার মেশিন, একটি সেলাই মেশিন ও চট্টগ্রামের মাদাদবাড়ী থেকে ক্রেফসোল্ট ও ফাইবার কিনে আনেন। ধীরে ধীরে তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পরিচিতি লাভ করেন।

তরুণ উদ্যোক্তা সুজন রবি দাশ

সুজন এখন জুতার দক্ষ কারিগর হিসেবে নিজ হাতে জুতা ও স্যান্ডেলের নমুনা তৈরি করেন। তার হাতে তৈরি জুতার কদর রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম শহর ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানসহ বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারী দরে বিক্রি হচ্ছে।

সুজন রবি দাশ বলেন, ‘আমি পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সাংসারের অভাব মেটাতে নিজেই বেছে নিলাম জুতা সেলাইয়ের কাজ। জুতা সেলাই করে যা আয় হয়, তা দিয়ে বাবার চিকিৎসা, সংসারের খরচ এবং ছোট ভাইবোনদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে হিমশিম খেতে হতো। পরে বাবার অনুপ্রেরণায় জুতা তৈরির কাজ শুরু করি। বর্তমানে পাইকারী জুতার বিক্রি বেশি হওয়ায় ব্যবসা এগোচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, “আমার ইচ্ছা একটি জুতার ফ্যাক্টরি খোলার, কিন্তু পুঁজি নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছেন। সরকারি সহায়তা বা স্বল্প সুদের দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা পেলে রাঙ্গুনিয়ায় আমার ব্যবসা একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াবে।”

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নেব। তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে উপজেলা প্রশাসন। এই ধরনের উদ্যোক্তাদের কাঠামোগত সুবিধা দিলে তারা প্রতিষ্ঠা পাবে এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। তাকে দেখে অন্যরাও উদ্বুদ্ধ হবেন।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!