ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বাগেরহাটে ধান নিচ্ছে না খাদ্য গুদাম, অভিযোগের তীর কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের দিকে

বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পেরে একাধিক কৃষক হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুলের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, অনিয়ম ও ঘুষ দাবির অভিযোগ এনে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে চিতলমারী উপজেলায় সরকারি হিসেবে ১ হাজার ৩৬৩ মেট্রিক টন ধান এবং ২ হাজার ১৭৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চালের মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করেছে। কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের জন্য মাইকিংও করা হয়।

অভিযোগকারী কৃষকদের দাবি, সরকারি ঘোষণা শুনে ধান নিয়ে খাদ্য গুদামে গেলেও প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না। কৃষক কার্ড জমা রেখে তাদের ঘুরানো হচ্ছে। বরং অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অন্য উৎস থেকে ধান সংগ্রহ করে গুদাম ভর্তি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না।

কৃষকদের আরও অভিযোগ, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বস্তাসহ ৪১ কেজি ২০০ গ্রাম ধান নেওয়ার কথা থাকলেও ৪২ কেজি ২০০ গ্রাম করে ধান নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে অতিরিক্ত ৩ মণ ধান উৎকোচ হিসেবে দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরকারি রাজস্ব বাবদ অর্থ কেটে রাখা হলেও কোনো ভাউচার দেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তারা।

শিবপুর কাটাখালী গ্রামের কৃষক ঠান্ডা ফকির বলেন, আমি ধান নিয়ে গেলে প্রতি ৫০ মণ ধানের বিপরীতে অতিরিক্ত ২ মণ ধান উৎকোচ দাবি করা হয়। রাজি না হওয়ায় আমাকে গালিগালাজ করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান।

খড়মখালী গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন তিনি। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তার ধান গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর পরও তিনি ধান বিক্রি করতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন।

হিজলা গ্রামের কৃষক মো. ইসহাক বলেন, সরকারি দামে ধান বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ব।

আড়ুয়াবর্ণী গ্রামের কৃষক মো. শরিফুল হক অভিযোগ করেন, খাদ্য গুদাম চত্বর একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ওই সিন্ডিকেটের বাইরে থাকা কৃষকদের ধান গ্রহণ করা হয় না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চিতলমারী ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মুহাইমিনুল অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতেও রাজি হননি।

চিতলমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কাওছার আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন। আমি অফিসে ফিরে অভিযোগটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।