দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের নবাবগঞ্জ রোডের রেলগেট এলাকায় পচা ও বাসি গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছে। ক্রেতারা মাংসে দুর্গন্ধ পেয়ে সন্দেহ হলে পুলিশকে খবর দেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে অভিযুক্ত বিক্রেতা দোকান ও মাংস ফেলে কৌশলে পালিয়ে যান।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জোয়ালকামড়া গ্রামের আজিমুদ্দিন নামের ওই মাংস বিক্রেতা মাংস বিক্রি করছিলেন। এ দিন নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যয়ন ছাড়া গরু বিক্রি করায় একই গ্রামের গরুর মালিক রেজাউল হককে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন।
বিরামপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে দুর্গন্ধযুক্ত মাংস জব্দ করে নিরাপদ স্থানে গর্ত করে পুঁতে ফেলা হয়। তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত বিক্রেতা পলাতক থাকলেও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন বলেন, শুধু মাংস নয়—যেকোনো খাদ্যদ্রব্য বা পণ্য বিক্রিতে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কেউ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, ওই এলাকায় মৃত বা রোগাক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রি করা হচ্ছিল। অন্যথায় এত তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর কথা নয়। এ ছাড়া নির্ধারিত বাজারের বাইরে মাংস বিক্রি করাও সন্দেহজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
স্থানীয় ক্রেতারা অভিযোগ করেন, যথাযথ অনুমতি বা প্রত্যয়ন ছাড়াই রাতের আঁধারে যত্রতত্র গরু জবাই করে দিনের বেলায় বিরামপুর পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানে জবাই ও বাজারে বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের দৃশ্যমান তদারকির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ভোক্তারা। তারা যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন নিশ্চিত করে নির্ধারিত স্থানে জবাই ও বাজারে মাংস বিক্রির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন