ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

বিরামপুরে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে কর্মশালা

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

দিনাজপুরের বিরামপুরে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (এসজিবিভি) প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে রেফারেল পথনির্দেশনা ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রণয়নবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে ল্যাম্ব হেলথ-ইউকের আর্থিক সহযোগিতায় ল্যাম্বের কমিউনিটি সেফটি শিল্ড (সিএসএস) প্রকল্পের উদ্যোগে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল মানব পাচার ও এসজিবিভি-সংক্রান্ত ঘটনার কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেফারেল পথনির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করা এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি মানব পাচার ও এসজিবিভি মামলার সমন্বিত ব্যবস্থাপনার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরের (এসওপি) খসড়া নিয়ে আলোচনা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সম্মতিক্রমে তা স্বাক্ষরিত হয়।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তানজিনা খাতুন। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের আশায় অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বিদেশে যাওয়ার আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করা জরুরি, কারণ মানব পাচারের শিকার মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তিনি মানব পাচার প্রতিরোধে কমিউনিটি সেফটি শিল্ড প্রকল্পের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান এবং প্রকল্পের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

কর্মশালায় বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায়, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা, বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম সরকার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সাংবাদিক এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

ল্যাম্বের কমিউনিটি সেফটি শিল্ড প্রকল্পের পক্ষে কর্মশালার বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিলাস পৌল তিগ্যা, সিএইচডিপি ম্যানেজার মো. হাফিজুর রহমানসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

কর্মশালায় সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক, ধর্মীয় ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষকেরা অংশ নেন। বক্তারা মানব পাচার ও এসজিবিভির শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় বলা হয়, একটি কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের স্বাস্থ্যসেবা, আইনি সহায়তা, নিরাপদ আশ্রয়, মানসিক সহায়তা ও পুনর্বাসন সেবা দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব। এজন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুসংগঠিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

কর্মশালার শেষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, কর্মশালায় প্রণীত এসওপি এবং শক্তিশালী রেফারেল ব্যবস্থা ভবিষ্যতে মানব পাচার ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।