ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

অবরুদ্ধ ১৫ পরিবার, চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় একমাত্র চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১৫টি পরিবারের শতাধিক মানুষ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শিক্ষা, কৃষিকাজ, চিকিৎসাসেবা ও দৈনন্দিন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের খর্দ লক্ষনদিয়া গ্রামের কাজী বাড়ি সড়ক এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পূর্বপুরুষদের সময় থেকে হিরু কাজী, খোকা কাজী, লাভলু কাজী, টুনু কাজী, টিপু কাজী, তাইফুর কাজী, আনিস কাজী, মিরন কাজী, মিশন কাজী, শাহিন কাজী, ইব্রাহিম কাজী, তুহিন কাজী, রবিন কাজী, সুমন কাজী ও রিফাত কাজীসহ একাধিক পরিবার এই পথ ব্যবহার করে আসছেন। পরবর্তীতে স্থানীয়দের উদ্যোগ ও ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে রাস্তার কাজ শুরু হলেও মাঝপথে বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার প্রায় ৩০ ফুট অংশ নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী মৃত লাল কাজীর ছেলে মজিবুর কাজী রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন। এতে ওই অংশের নির্মাণ অসম্পূর্ণ থেকে যায় এবং পুরো রাস্তা কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

ভুক্তভোগীরা জানান, রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা নানা সংকটে পড়েছেন। কৃষকরা জমি থেকে উৎপাদিত ফসল বাড়িতে আনতে পারছেন না। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায় জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা টুনু কাজী বলেন, 'আমরা পূর্বপুরুষের সময় থেকে এই পথ ব্যবহার করে আসছি। প্রধান সড়ক থেকে আমাদের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট রাস্তা। এর মধ্যে মাত্র ৩০ ফুট জায়গা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আজ আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।'

আরেক ভুক্তভোগী টিপু কাজী বলেন, 'এটাই আমাদের একমাত্র চলাচলের পথ। ২০২৩ সালে চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় রাস্তার অনুমোদন নেওয়া হয়। শুরুতে কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু হঠাৎ করেই বাধা দেওয়া হয়। এখন সন্তানদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে।'

স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে অবরুদ্ধ পরিবারগুলো স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ ফিরে পায় এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মজিবুর কাজীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।'

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, 'বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'