ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যশোরে সরিষার আবাদ বেড়েছে, বাম্পার ফলনের আশা

যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, ০১:৫০ পিএম
সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

যশোরে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন হলুদের সরিষার ছোঁয়া। হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে সরিষা ফুল। এই সুন্দর দৃশ্য মানুষের নজর কাড়ছে। দূর থেকে দেখে মনে হচ্ছে, হলুদের বিছানা পাতানো। হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়েছে উঠেছে মাঠ। সরিষা ফুলের হলুদ হাসিতে কৃষকদের মন আনন্দে উদ্বেলিত। বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ২৭ হাজার ৮০৭ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৭ হেক্টর বেশি জমি। গত মৌসুমে চাষ হয়েছিল ২৬ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। যশোর সদর, শার্শা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া ও অভয়নগর উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি সরিষার চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষার আবাদে ঝুঁকেছেন।

এবার বিএডিসির উচ্চফলনশীল জাত বারি-১৪, বারি-১৫, বারি-১৭, বিনা-৯ ও ‘সম্পদ’ জাতের সরিষা বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

চৌগাছা উপজেলার ফুলসরা গ্রামের মতিয়ার রহমান জানান, সরিষা চাষ করা মানে কম খরচে বেশি লাভ। ফলে প্রতি মৌসুমে সরিষার আবাদ করেন৷ এবারও এক বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন ৷ বাম্পার ফলনেরও আশা করছেন।

সিংহঝুলি গ্রামের চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে তিন বছর ধরে সরিষার চাষ করছি। গতবারও ভালো ফলন হয়েছিল। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে আরও কিছু সরিষা বিক্রি করেছিলাম। এ বছরও দুই বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। আমন ধানের জমিতে সরিষা চাষ করতে কোনো সেচ, সার ও পরিচর্যা ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়া যায়।

যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের চান্দুটিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, কয়েক বছর ধরে সরিষার চাষ করছেন। ফলনও ভালো হয়। নিজেদের পারিবারিক প্রয়োজন মিটিয়ে সরিষা বিক্রি করে লাভও হয়। এবার দুই বিঘা জমিতে তিনি সরিষার চাষ করেছে।

শ্যামনগর গ্রামের কৃষক আবদুল মুজিদ জানান, গত দুই মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ বাম্পার ফলন পেয়েছিলেন। এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। বাম্পার ফলনের আশাও করছেন।

শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছী গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতি বিঘা সরিষা চাষে খরচ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এর বাজারে চাহিদা ভালো থাকে এবং দাম ভালো পাওয়া যায়। বর্তমান সরিষার গাছ, ফুল-ফল ভালো হয়েছে। আশা করছি, বাম্পার ফলন হবে। গত বছরের মতো লাভবান হতে পারব।

বালুন্ডা গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন জানান, সরিষার চাহিদা ভালো থাকাতে এবং চাষে ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকাতে প্রতি মৌসুমে সরিষার চাষ করি। আশা করছি, এবারও দাম ভালো পাওয়া যাবে। এ বছর উপযুক্ত দাম পেলে আগামী বছর সরিষা চাষে আরও অনেকেই ঝুঁকে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, বারি-১৪ জাতের সরিষার গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করে। এ জাতের সরিষা আবাদের পর একই জমিতে বোরো আবাদে সারের পরিমাণও কম লাগে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে এবার দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেন তিনি।

অভয়নগর উপজেলার সিঙ্গেড়ি গ্রামের সানোয়ার আলী জানান, দেড় বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বিঘা জমিতে পাঁচ থেকে ছয় মণ পর্যন্ত সরিষা পাবেন।

তিনি আরও জানান, মৌয়ালরা মাঠজুড়ে মৌ বাক্স স্থাপন করায় মধু উৎপাদন বাড়ছে, অন্যদিকে পরাগায়নের মাধ্যমে সরিষার উপকার হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষা আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন। তাদের সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলন হবে।