যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাব্বির ওরফে গোল্ডেন সাব্বিরকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র্যাব।
মঙ্গরবার (১৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১টি পিস্তল ও ১৫টি ককটেল। গোল্ডেন সাব্বির শহরের চাঁচড়া রায়পাড়ার মশিয়ার রহমান খোকনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দুটি হত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর ফজলে রাব্বি জানান, গোল্ডেন সাব্বির শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে চারতলা ভবনের চতুর্থ তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। সেখান থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গোল্ডেন সাব্বিরকে আটক করা হয়েছে। এ সময় রান্নাঘর ও খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা ১ পিস্তল ১৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পিস্তল ও ককটেল নিয়ে গোল্ডেন সাব্বির নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো বলে র্যাবের ধারণা। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হবে। ইতিপূর্বে গোল্ডেন সাব্বিরের বিরুদ্ধে দুটি হত্যা মামলাসহ ১০টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোল্ডেন সাব্বির যশোর শহরের ত্রাস। তার নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে একটি কিশোর গ্যাং। শহরের রেলগেট, চাঁচড়া রায়পাড়া, ষষ্টিতলা, শংকরপুর, ঘোপ, শহরতলী সুজলপুর এলাকার কিশোররা এই গ্যাংয়ের সদস্য। তারা খুন, জখম, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত।
গত ২০২৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোল্ডেন সাব্বিরের পরিকল্পনায় রাজমিস্ত্রি আজিম হোসেন আকাশকে (২১) হত্যা করা হয়। তিনি শহরের শংকরপুর এলাকার তোতা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহত আকাশের মা ফরিদা বেগম গোল্ডেন সাব্বিরসহ ১২ জনের নামে মামলা করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুলাই মাসে পুলিশ ওয়ান শুটারগান, দুই রাউন্ড গুলি, পাঁচটি ককটেল ও ৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ গোল্ডেন সাব্বির ও তিন জনকে আটক করে। ২০২০ সালে দিকেও অস্ত্র, গুলিসহ পুলিশের কাছে আটক হয়েছিল গোল্ডেন সাব্বির।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন