পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়পুরহাটের কালাইয়ের কামার কারিগররা। সারা বছর কাজের চাপ কম থাকলেও ঈদকে ঘিরে বেড়েছে তাদের ব্যস্ততা। তবে আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি বিদেশি পণ্যের দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প। শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার কথা জানিয়েছেন কামাররা। সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছে জয়পুরহাট জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ।
ঘনিয়ে আসছে পবিত্র ঈদুল আজহা, অর্থাৎ কোরবানির ঈদ। আর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জয়পুরহাটের কালাইয়ের কামারপল্লীর কারিগররা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। কেউ তৈরি করছেন ছুরি, কেউ দা-বটি, আবার কেউ ধার দিচ্ছেন পুরোনো সরঞ্জামে। একসময় জেলার বিভিন্ন এলাকায় কামার শিল্পের ব্যাপক কদর থাকলেও বর্তমানে চীনা আধুনিক প্রযুক্তির চকচকে তৈজসপত্র বাজার দখল করায় কমে গেছে দেশীয় পণ্যের চাহিদা। এতে অনেকেই পেশা পরিবর্তন করলেও এখনও অনেকে টিকে আছেন।
তারা ঈদ মৌসুমকে ঘিরেই বছরের বড় আয়ের আশা করছেন। সারা বছর তেমন কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে এখন দম ফেলার সময় নেই তাদের। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকার ও মানের ছুরি, দা ও বটি তৈরি করতে ব্যস্ত সময় কাটছে কামারদের। তবে বিক্রিতে হতাশ তারা।
কালাই কর্মকারপাড়ার কামার উজ্জ্বল বলেন, আগের মতো কাজকর্ম নেই, কাজ খুব কম। এখন মানুষের খুব অভাব। আমাদের এলাকায় আলু ও ধানের দাম না থাকায় বিক্রি একেবারে কম।
এবার ওজন ও মানভেদে ছুরি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০০ টাকায়, দা ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায় এবং বটি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকায়। কাঁচামালের দাম বাড়লেও ক্রেতাদের কথা বিবেচনা করে তুলনামূলক কম লাভে পণ্য বিক্রি করছেন তারা।
পুনট বাজারের সুনীল কামার বলেন, আমরা লোহার কাজ করি, আমরা জাতীয় কর্মকার। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাজের যে চাপ থাকার কথা, সেটা নেই। টুকটাক কাজ হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করে, তাহলে আমরা এই পেশাটা ধরে রাখতে পারব।
অন্যদিকে কালাই কর্মকারপাড়ায় ঝামুটপুর থেকে আসা এক ক্রেতা বলেন, কোরবানি উপলক্ষে আমি এখানে ছুরি বানাতে এসেছি। যদিও কয়লা আর লোহার দাম বেড়েছে, তবুও তারা দাম মোটামুটি কমই রাখার চেষ্টা করছে।
পুনট বাজারে আসা আলীম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, কোরবানির জিনিসপত্রের দাম গতবারের চেয়ে একটু বেশিই মনে হচ্ছে। এখন তাদের সিজন, ঈদের পরে স্বাভাবিক হবে।
জয়পুরহাট জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক লিটন চন্দ্র ঘোষ বলেন, এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আগুন-হাতুড়ির শব্দে টিকে থাকার এ লড়াইয়ে আজ অনেকেই পেশা পরিবর্তন করলেও ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং স্বাভাবিক জীবিকা নির্বাহে কামাররা দ্রুত সরকারি সহায়তা চান।

