× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

ভোট ঘিরে বাড়ছে শঙ্কা

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৩, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা খুলনায় ফের চরমপন্থি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। একসময় চরমপন্থি অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতা নির্বাচনি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মহানগর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, কিছু মহল নির্বাচনি সুবিধা আদায়ের জন্য চরমপন্থিদের ব্যবহার করতে পারে। এমন বাস্তবতায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে।

খুলনা মহানগরীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনের প্রার্থীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য তিন জন করে গোয়েন্দা ওয়াচার নিয়োজিত করা হয়েছে। এই নজরদারির আওতায় রয়েছেন খুলনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-৫ আসনের (মহানগর এলাকা) জামায়াত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। তবে এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গানম্যান দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে জেলার কয়েকটি আসনের প্রার্থীরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চেয়ে গানম্যানের আবেদন করেছেন। এর মধ্যে খুলনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলী আসগার লবী এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী রয়েছেন। খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিধি অনুযায়ী আবেদনগুলো জেলা প্রশাসক তথা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, যেসব প্রার্থীর নির্বাচনি কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোর সময়সূচি সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা নিয়মিত নজরদারি করছেন।

চরমপন্থি আতঙ্কের বিষয়ে সম্প্রতি খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি নির্বাচনি এলাকায় অবৈধ অস্ত্রধারীদের তৎপরতা এবং সম্ভাব্য চরমপন্থি অপতৎপরতার আশঙ্কা পুলিশকে অবহিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, ডিসেম্বরে ঢাকায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে গুলিতে হত্যার ঘটনার পর দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো খুলনার প্রার্থীদের নিরাপত্তা বিষয়েও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিটিএসবির তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রয়োজনে গানম্যান দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। গত ১৬ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় অন্তত ৫০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে দৌলতপুরে ঘরের ভেতর ঘুমন্ত যুবককে গুলি করে হত্যা, কাস্টম ঘাট এলাকায় বাড়িতে ঢুকে গুলি, দৌলতপুরে বাড়ির সামনে যুবদল নেতাকে হত্যা এবং আদালত চত্বরে জোড়া খুনের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এসব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক কারবার, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং অপরাধী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্য দিবালোকে ও জনবহুল এলাকায় ঘটেছে।

সর্বশেষ, খুলনার ঘাট এলাকায় ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মরদেহ চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যের বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই ঘটনার পর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরমপন্থি তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ।

নিরাপত্তাহীন এই পরিস্থিতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Link copied!