× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

যারা ‘না’ ভোটের পক্ষে, তারা দুর্নীতি-চাঁদাবাজি টিকিয়ে রাখতে চায়: গোলাম পরওয়ার

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

খুলনা-৫ আসনের (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘যারা আসন্ন নির্বাচনে ‘‘না’’ ভোটের পক্ষে কথা বলছে, তারা মূলত দেশে বিদ্যমান দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চায়।’

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনি জনসভা, মিছিল, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে না পারলে গত ৫৪ বছরে দেশের মানুষ যে দুর্ভোগ, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার শিকার হয়েছে, তা আবারও চলতে থাকবে।’ তিনি দাবি করেন, ‘ছাত্রসমাজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনে চাঁদাবাজদের পরাজিত করেছে, ফলে জাতীয় নির্বাচনেও দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজদের পরাজিত করা সম্ভব।’

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নৈতিকতা ও চরিত্রবান নেতৃত্বের পক্ষে ভোট দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ধানের শীষ, নৌকা কিংবা লাঙ্গল রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারলে দাঁড়িপাল্লাও পারবে—এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে শত্রুতা নয়, বরং সৌহার্দ্য বজায় রেখে দেশকে ভালোবাসাই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল চেতনা।’

আসন্ন নির্বাচনকে গণভোট উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে ‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিতে হবে।’ ভোটের দিন ভোটারদের সকালেই কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে ভোট দিয়ে তারপর ঘরে ফিরবেন। যুবকদের দায়িত্ব থাকবে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া, যাতে কোনো ভোট ডাকাতি বা সন্ত্রাস না হয়।’

নিজের নির্বাচনি এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাবেক এই এমপি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে বিল ডাকাতিয়ার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনই হবে তার এক নম্বর অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও বিল ডাকাতিয়ার লোক। এখানেই আমাদের জমি-জমা ও ফসল। এই বিল ডুবে গেলে আপনাদের যে কষ্ট হয়, সেই কষ্ট আমারও হয়। আল্লাহ যদি তাকে কবুল করেন, তবে প্রথম কাজ হবে বিল ডাকাতিয়ার পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনের পর ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট, মসজিদ-মন্দিরসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করা হবে।’ ফুলতলা উপজেলা তার জন্মস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ শাসন করেছে, তাদের কেউই দুর্নীতিমুক্ত শাসনের দাবি করতে পারে না। তিনি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিকে একযোগে দায়ী করে বলেন, প্রত্যেক সরকারের আমলেই দুর্নীতি, দলীয়করণ ও বিরোধী দমননীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ভোট কেনা প্রসঙ্গে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করতে হবে। তিনি বলেন, ভোট বিক্রি করা মানে ভবিষ্যৎ বিক্রি করা। ভোট কেনার উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সামাজিক কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ। বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে পুরোনো রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অপরিহার্য। তিনি দাবি করেন, ১০১ দলীয় জোট রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতি নির্মূল, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মইনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, ফুলতলা উপজেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল আলিম মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আব্দুর রশীদ বিশ্বাসসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ।
 

Link copied!