বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) বিকেল ৩টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিকেল ৩টায় দুধকুমার নদীর পানি ২৯ দশমিক ৮৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এ পয়েন্টে পানি বেড়েছে ৮ সেন্টিমিটার।
দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুধকুমার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকডাঙ্গা, ছিট পাইকেরছড়া, চর বলদিয়া এবং নাগেশ্বরী উপজেলার চরবিষ্ণুপুর, বালাবাড়ি, লুছনি ও ফান্দের চর এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার ক্ষেত-খামার ডুবে যাচ্ছে। বাড়ির আশপাশে পানি উঠায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ জানান, দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩ হাজার পরিবার বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এসব মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শুকনো খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে এবং চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জিআরের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এখনো পরিস্থিতি সেরকম তৈরী হয়নি। হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপরদিকে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ২৫ দশমিক ৬৩ মিটার, যা বিপৎসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচে। তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে পানি ৩০ দশমিক ৩৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৫২ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার, হাতিয়া পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সব পয়েন্টেই নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রলাকাটা, গোয়াইলপুরী, খাসের চরসহ অন্তত ছয়টি চরের প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, এসব পরিবারের বসতবাড়ির চারপাশে পানি ওঠায় দূর্ভোগে পরেছে। পানিবন্দি এসব পরিবারকে সহায়তার জন্য জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।
এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বেড়ে সোমবার বিকেল ৩টায় ২৯ দশমিক ৩০ মিটারে পৌঁছেছে। সকাল ৬টা থেকে ৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে নদীটি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী আরও ২৪ ঘন্টা থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, উজানের ঢলে দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তিস্তার পানিও বিপৎসীমা ছুঁইছুঁই। অন্য নদীগুলোর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ৭২ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন