বর্ষার আগমনের সঙ্গে প্রকৃতিতে যে কয়েকটি দৃশ্য অবধারিতভাবে ফিরে আসে, তার অন্যতম কদম ফুল। টানা বৃষ্টির পর সবুজ পাতার আড়াল ভেদ করে গোলাকার হলুদ কদম যেন প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে তোলে। বর্ষার দূত এই ফুলের সৌন্দর্যে এখন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হয়ে উঠেছে আরও প্রাণবন্ত।
উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বসতভিটার আঙিনা ও খোলা প্রান্তরে ফুটে থাকা কদম ফুল সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে। অনেকেই থেমে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার স্মৃতিতে ধরে রাখতে তুলছেন ছবি। বর্ষার স্নিগ্ধ পরিবেশে কদমের উপস্থিতি যেন প্রকৃতির সৌন্দর্যকে আরও পরিপূর্ণ করে তুলছে।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কদম ফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে। কবিতা, গান ও চিত্রকলায় বর্ষার প্রতীক হিসেবে কদম ফুল এসেছে বারবার। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান।’ এ ছাড়াও কবি জীবনানন্দ দাশের বিভিন্ন কবিতায় বর্ষা ও কদম ফুল পরোক্ষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্ভিদ সংশ্লিষ্টদের মতে, কদম মূলত বর্ষাকালের ফুল। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও আর্দ্র পরিবেশে এ ফুল ভালোভাবে ফোটে। বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে। এর কাঠ কাগজ ও দিয়াশলাই শিল্পে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি গাছটির বিভিন্ন অংশে ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে।
একসময় গ্রামবাংলার নানা প্রান্তে কদম গাছের উপস্থিতি ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। নগরায়ণের ফলে বর্তমানে এর সংখ্যা কিছুটা কমে এলেও বর্ষা এলেই কদম আবারও জানান দেয় তার চিরচেনা অস্তিত্ব। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে তাই কদম শুধু একটি ফুল নয়, এটি বাংলার নির্মল প্রকৃতির সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতীক।
প্রকৃতির সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও কদম গাছের গুরুত্ব রয়েছে। তাই পরিবেশবিদদের মতে, বর্ষার প্রতীক এই গাছ রোপণ ও সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

