সবার আগে মানতে হবে নিয়ম। নিয়ম না মেনে বিশ্বকাপের পতাকা ওড়ালেই গুনতে হবে ৪ লাখ টাকা জরিমানা।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, বারান্দা কিংবা জানালাজুড়ে দেখা যায় নানা দেশের পতাকা। কিন্তু কোনো দলকে সমর্থনের আবেগ যদি স্থানীয় আইনকে অতিক্রম করে যায়, তাহলে মুহূর্তেই পরিণত হতে পারে আর্থিক বিপদে। সেই কঠোর আইন জারি করা আছে ইংল্যন্ডে। ইংল্যান্ডে নির্দিষ্ট নিয়ম ভেঙে পতাকা প্রদর্শন করতে হয়। আর সেই নিয়ন ভঙ্গ করলেই জরিমানা গুনতে হয়। যেনতেন জরিমানা নয়। জরিমানার অঙ্ক পৌঁছাতে পারে কয়েক লাখ টাকায়। আইনের মারপ্যাঁচে এই খেসারতের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।
বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস এখন তুঙ্গে। অনেকেই নিজেদের পছন্দের দলের প্রতি সমর্থন জানাতে বাড়ির সামনে, জানালায় বা দেয়ালে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে থাকেন। তবে ইংল্যান্ডে এ ধরনের পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে রয়েছে কিছু নির্দিষ্ট আইনি বিধান আছে, যা অমান্য করলে বড় ধরনের জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।
দেশটির পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, বাড়ির ছাদে নিরাপদভাবে স্থাপন করা হলে যেকোনো আকারের পতাকা ওড়ানো সাধারণত অনুমোদিত। তবে পতাকাটি অবশ্যই ভালো অবস্থায় থাকতে হবে এবং এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে জননিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি না হয়।
সমস্যা দেখা দেয় যখন পতাকা ছাদ ছাড়া বাড়ির অন্য অংশে, যেমন জানালা, বারান্দা বা বাইরের দেয়ালে ঝোলানো হয়। যুক্তরাজ্যের পরিকল্পনা বিধিমালায় এসব ক্ষেত্রে পতাকার আকার ও প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে আলাদা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অনেক বাসিন্দাই এ বিষয়ে অবগত না থাকায় অনিচ্ছাকৃতভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করেন।
এ ছাড়া কোনো পতাকাদণ্ড ব্যবহার করলেও পতাকার আকার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যদি কোনো পতাকাকে নিয়মবহির্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করে অপসারণের নির্দেশ দেয় এবং সেই নির্দেশ মানা না হয়, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে (বংলাদেশি টাকায় যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা হতে পারে)।
শুধু এককালীন জরিমানাই নয়, নির্দেশ অমান্য করে পতাকা প্রদর্শন অব্যাহত রাখলে অতিরিক্ত দৈনিক জরিমানাও আরোপ করা হতে পারে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জরিমানা এড়ানো সম্ভব। সাধারণত প্রতিবেশীর অভিযোগ বা কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর স্থানীয় কাউন্সিল প্রথমে সতর্কবার্তা বা এনফোর্সমেন্ট নোটিশ পাঠায়। ওই নির্দেশনা মেনে পতাকা সরিয়ে ফেললে বা নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করলে বিষয়টি সেখানেই শেষ হয়ে যায়।
কেবল নির্দেশ অমান্য করলে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এমনকি আদালতে শুনানির আগমুহূর্তেও যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়ম মেনে পতাকা সরিয়ে ফেলেন, অনেক ক্ষেত্রেই আইনি প্রক্রিয়া আর এগোয় না।
তাই বিশ্বকাপের আবেগে প্রিয় দলকে সমর্থন জানানোর আগে স্থানীয় আইন ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



