নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি কেন্দ্রে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রের দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে এ ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃহস্পতিবার খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ৩০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।
সেখানে মনোহরদী সরকারি কলেজের ৬১২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে দুটি কক্ষের প্রায় শতাধিক পরীক্ষার্থীকে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে প্রথম পত্রের ‘খ’ সেট ১২১ কোডের নৈর্ব্যক্তিক (এমসিকিউ) প্রশ্ন বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে এসে উত্তর মিলাতে গিয়ে এমন গুরুতর ভুল দেখতে পায়। পরবর্তীতে জানাজানি হলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়। পরীক্ষায় অকৃতকার্য ও ভালে ফলাফল নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন তারা।
মনোহরদী সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী সাকিবা বলেন, পরীক্ষার হলে ভুল প্রশ্নপত্রের বিষয়টি বুঝতে পারিনি। বাড়িতে এসে উত্তর মিলাতে গিয়ে দেখি পুরনো প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন ভালো ফলাফল নিয়ে আমরা চিন্তিত।
কেন্দ্র সচিব ও খিদিরপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
মনোহরদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরেছি। পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের অবহেলার কারণে এমনটি ঘটেছে। বিষয়টির সমাধানের জন্য ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম.এ মুহাইমিন আল জিহান বলেন, প্রশ্নপত্র কেন্দ্রে আসার আগে যে ধাপগুলো আছে, সেই হিসেবে এক পরীক্ষার প্রশ্ন আরেক পরীক্ষায় আসা অনেকটা অসম্ভব বলা যায়। এক্ষেত্রে দায়িত্বে থাকা কলেজের শিক্ষকের ভুলের কারণেই এমনটা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চারজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন