অসীম হিমেল মূলত পেশায় একজন অর্থোপেডিক সার্জন হলেও সমকালীন বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি ইতোমধ্যেই একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। বিশেষ করে ‘খেদু মিয়া’ চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা তার সিরিজ উপন্যাসগুলো পাঠকমহলে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
তার দুটি উল্লেখযোগ্য বই হলো—‘সতেরো নম্বর বেডে খেদু মিয়া’ এবং ‘ধূম্রজালে খেদু মিয়া’।
‘সতেরো নম্বর বেডে খেদু মিয়া’ উপন্যাসে একটি রহস্যময় হাসপাতাল ও একটি ‘অপয়া’ বলে পরিচিত ১৭ নম্বর বেডকে কেন্দ্র করে গল্প এগিয়েছে। এখানে খেদু মিয়া একজন চিকিৎসক হয়েও নিজেই রোগী হিসেবে চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধ্য হন। পাশাপাশি রিয়া নামের এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর প্রেম, মানসিক দ্বন্দ্ব ও আত্মহননের ঘটনা উপন্যাসটিকে গভীর আবেগময় করে তোলে। বাস্তবতা, সম্পর্ক ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি কিছু অতিপ্রাকৃত ইঙ্গিত গল্পকে ভিন্ন মাত্রা দেয়।
অন্যদিকে, ‘ধূম্রজালে খেদু মিয়া’ উপন্যাসে রহস্য, বিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের সমন্বয় আরও বিস্তৃত রূপ পেয়েছে। এখানে খেদু মিয়া একজন ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হিসেবে অস্বাভাবিক ও ব্যাখ্যাতীত ঘটনাগুলোর অনুসন্ধান করেন। ডা. মিতুর মানসিক জটিলতা এবং রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাগুলো গল্পকে থ্রিলিং ও চিন্তাশীল করে তোলে।
উভয় উপন্যাসেই লেখক মানব মনের অন্ধকার দিক, সম্পর্কের ভাঙন, কৌতূহল ও অজানার প্রতি মানুষের টানকে দক্ষতার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। তার ভাষা সহজ, সাবলীল এবং বর্ণনামূলক হওয়ায় পাঠক সহজেই গল্পে যুক্ত হয়ে যান।
সব মিলিয়ে, অসীম হিমেলের এই দুটি বই শুধু গল্প নয়—বরং রহস্য, আবেগ ও মানবমনকে বোঝার এক ভিন্নধর্মী সাহিত্যিক প্রয়াস। যারা ভিন্নধর্মী ও চিন্তাজাগানিয়া গল্প পছন্দ করেন, তাদের জন্য বই দুটি নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয় পাঠ।

