অবরোধের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাজধানীর তেজগাঁওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাতরাস্তা মোড় ছেড়েছেন ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
তবে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের কারণে সৃষ্টি হওয়া যানজট অবরোধ তুলে নেওয়ার পরও কমেনি। সাতরাস্তা মোড় ছাড়াও মহাখালী, বিজয়নগরসহ আশপাশের সড়কগুলোতে ব্যাপক যানজট দেখা যায়, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সোয়া ৩টা পর্যন্ত প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা মোড় অবরোধ করে রাখেন প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী। এতে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান জানান, দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের কারণে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করে। শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
এর আগে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাতরাস্তা মোড় রাজধানীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। এই মোড় অবরোধ হওয়ায় বিজয়নগরসহ আশপাশের একাধিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এর প্রভাব পড়ে মহাখালী, ফার্মগেট ও সংলগ্ন এলাকাতেও। পরিস্থিতি সামাল দিতে মহাখালীর দিক থেকে আসা যানবাহন ডাইভারশন দিয়ে চলাচল করানো হয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, দশম গ্রেডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের পাশাপাশি বিএসসি প্রকৌশলীদের নিয়োগ দেওয়ার যে সুপারিশ করা হয়েছে, তার প্রতিবাদেই তারা সড়কে নেমেছেন। তাদের দাবি, এই সুপারিশ বাতিল করতে হবে।
কারিগরি ছাত্র আন্দোলনের সদস্য আরিফ বিল্লাহ বলেন, বর্তমানে সহকারী প্রকৌশলী পদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পেলেও সরকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে বিএসসি ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে—এমন তথ্য তারা জানতে পেরেছেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের সঙ্গে চরম বৈষম্য করা হবে। তাই সুপারিশ বাতিল না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে পড়ে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানবাহনসহ সব শ্রেণির মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন। অনেককে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন