রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তার (৭) হত্যার ঘটনায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর ফ্ল্যাট থেকেই স্বপ্নাকে আটক করা হয়। তবে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা শুরুতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল পেশায় একজন রিকশা মেকানিক। তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না জানিয়েছেন, সোহেল রানা বিকৃত মানসিকতার একজন ব্যক্তি এবং তিনি তাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হতে পারে। পরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ ক্ষতবিক্ষত করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির সঙ্গে কোনো ধরনের বিকৃত যৌন আচরণ বা ধর্ষণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পুলিশ আরও জানায়, নিহত রামিসার পরিবার ওই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করছিল। অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসে।
ঘটনার দিন সকালে শিশুটিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার স্যান্ডেল দেখতে পান। তখন দরজায় নক করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে পুলিশের অভিযোগ, মূল আসামি সোহেলের পালানোর সুযোগ করে দিতে দীর্ঘ সময় দরজা খোলেননি তার স্ত্রী স্বপ্না। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি দরজা খোলেন এবং পরে ঘটনাটিতে সহায়তার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়।

