ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধন অনুষ্ঠান স্থগিত

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক লোগো। ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে পাঠানো এক খুদেবার্তায় অনুষ্ঠানের স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানানো হয়। বার্তায় একে ‘অনিবার্য কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ উচ্চপদস্থ ব্যাংকার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। 

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে একীভূত ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের মধ্যে লাভ-লোকসান নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণেই অনুষ্ঠানটি আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পর থেকেই আমানতকারীদের মধ্যে মুনাফা না পাওয়া এবং টাকা উত্তোলনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। গত কয়েক দিনে ব্যাংকটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আমানত উত্তোলন করা হলেও একই সময়ে কিছু নতুন আমানতও জমা হয়েছে।

এর আগে আমানতকারীদের দুই বছরের মুনাফা ‘হেয়ারকাট’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বার্ষিক ৪ শতাংশ হারে আংশিক মুনাফা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তাতেও অনেক আমানতকারী সন্তুষ্ট হননি।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত স্কিম অনুযায়ী, নতুন এই ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার সরবরাহ করেছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা প্রাতিষ্ঠানিক ও অন্যান্য স্থায়ী আমানত থেকে শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।

নতুন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় হবে মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে। টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত যেকোনো সময় তোলা যাবে। তবে এর বেশি আমানতের ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ দুই বছরে টাকা উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এ ছাড়া স্থায়ী আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ বা ঋণসুবিধা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।