ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোতে যেসব সুবিধা থাকছে এমপিও শিক্ষকদের

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

দীর্ঘদিন পরে হলেও দেশের বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজের দাবি পূরণের পথে এগোচ্ছে। নবম পে-স্কেলের আওতায় থাকা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বহুদিন ধরেই নিজেদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। অবশেষে এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আলাদা বেতন কাঠামোর আওতায় আসতে পারেন। এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারির প্রস্তুতি চলছে। যদিও বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পে-কমিশন জানিয়েছিল, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো নির্ধারণ তাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ সার্ভিস কমিশনের। ফলে তারা এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তবে বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে শিক্ষকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এদিকে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন ও জোট ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান গ্রেড কাঠামোর ১ম থেকে ৭ম গ্রেড পর্যন্ত অপরিবর্তিত রেখে নিম্ন গ্রেডগুলো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে ১ম গ্রেডে শিক্ষকদের মূল বেতন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে প্রতি বছর ২.৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়িভাড়া এবং ১ হাজার ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ২য় থেকে ৭ম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার, ১ লাখ ২৫ হাজার, ১ লাখ ১০ হাজার, ৯৫ হাজার, ৮০ হাজার এবং ৭০ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

নিম্ন গ্রেডগুলোর মধ্যে ৮ম গ্রেডে ৬২ হাজার, ৯ম গ্রেডে ৫৫ হাজার, ১০ম গ্রেডে ৫০ হাজার, ১১তম গ্রেডে ৪৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ৪০ হাজার, ১৩তম গ্রেডে ৩৫ হাজার এবং ১৪তম গ্রেডে ৩০ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় শুধু বেতন নয়, বরং বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডে ভিন্ন ভিন্ন হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সামগ্রিকভাবে শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

শিক্ষক নেতারা মনে করছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত লাখো শিক্ষকের জীবনমান উন্নত হবে এবং শিক্ষা খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।