সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৪, ০৫:৪১ এএম

ছাত্রী হেনস্তাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মারধরের শিকার ৫ ইবি শিক্ষার্থী

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: মে ১৪, ২০২৪, ০৫:৪১ এএম

ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পার্শ্ববর্তী শেখপাড়ার নূরজাহান ছাত্রীনিবাসে একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রীনিবাস কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিকের উপরেও চড়াও হয় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় ১ সাংবাদিকসহ আরো ৪ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

সোমবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু পকেট গেইট সংলগ্ন শেখপাড়া এলাকায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির দুজন পুলিশ এসে মেসের কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এতে ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

আহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের আবু হানিফ পিয়াস, সমাজ কল্যাণ বিভাগের সাকিব আহমেদ, ইংরেজি বিভাগের হৃদয় আবির এবং আইসিটি বিভাগের নাঈম রেজা। প্রত্যেকেই। এছাড়াও মো: আশিক খান নামে স্থানীয় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী, প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ছাত্রীনিবাসের এক শিক্ষার্থীর বিদ্যুৎ বিল বকেয়া ছিল। পরে মেসের ম্যানেজারকে বিল দিতে গেলে বিলের পরিমাণ নিয়ে ঝামেলা হলে সে তার বন্ধুদের জানায়। তার বন্ধুরা মেসে যেয়ে অনুমতি না নিয়ে রুমে ঢোকা, বিভিন্ন সময় বাজে ইঙ্গিত দেওয়া, হাত ধরার চেষ্টা করার ব্যাপারে ম্যানেজারকে জেরা করে। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে ওই শিক্ষার্থীর বন্ধুদের উপরে চড়াও হয়। মারামারির একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের সাংবাদিকসহ কয়েক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এক যুবক আহত হয়। 
 
শিক্ষার্থী ফারিয়া খাতুন বলেন, মেস ম্যানেজার বিদ্যুৎ বিলের নাম করে শিউলী খালাকে আমার রুমে পাঠাতো। বিদ্যুৎ বিল হয়েছিল ৪১৫ টাকা। আমি বিদ্যুৎ বিল দিতে গেলে মেস ম্যানেজার (বিবেগ বিশ্বাস) আমার সাথে কেমন টাইপ কথা বলার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া থাপ্পড় দিয়ে মেস থেকে বের করে দেয়ার হুমকি প্রদান করে। ম্যানেজার আমাকে হুমকি দেয়ায় ভীত হয়ে বন্ধুদের ডাকলে বন্ধুদের সামনেও ম্যানেজার আমাকে থাপ্পড় মারার কথা বলে। এতে বন্ধুদের সাথে ম্যানেজারের তর্কাতর্কি হয়। পরে খালু (ইসলাম জোয়াদ্দার) এসে তাদের বের করে দেয়। আমার বন্ধুদের ডাকা ভুল হয়েছে। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।

ফারিয়া খাতুন ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমি রুমে একা থাকতাম। ম্যানেজার মাঝেমধ্যেই অযথা খোঁজ খবর নেওয়ার নাম করে আমার রুমে আসতো, দরজা খুললে ভেতরে আসতে চাইতো। আবার টাকা দিতে গেলে হাত ধরার চেষ্টা করত। পরবর্তীতে আমি টাকা তার হাতে না দিয়ে টেবিলে রেখে চলে আসতাম। হাতে না দেওয়াতেই সে ক্ষুব্ধ হয়। 

নূর জাহান মেসের ম্যানেজার বিবেগ বিশ্বাস বলেন, আমার ব্যাপারে সকল অভিযোগ মিথ্যা। আমি সেই মেয়েকে থাপ্পড় দিবো এমন কিছু বলি নি। আমি বিদ্যুৎ বিল চাইলে সে আমার সাথে খারাপ ব্যাবহার করে তার বন্ধুদের ডাকে। তার বন্ধুরা আমার উপর চড়াও হয়। পরবর্তীতে তারা মেসের একজনকে মারধর করে।

ফারিয়ার বন্ধু আহত আবু হানিফ পিয়াস বলেন, আমাদের বান্ধুবীদের সাথে বেশ ক'দিন ধরেই মেস ম্যানেজার বাজে ব্যবহার করে আসছিলো। সে নাকি বিভিন্ন সময় ওদের রুমে প্রবেশ করার চেষ্টা করে এবং ওদের বাজে ইঙ্গিত করে। আজকের ব্যাপারে জানালে আমরা কয়েক বন্ধু মেসে গেলে ম্যানেজারের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এলাকাবাসী এসে আমাদের উপর লাঠিসোঁটা দিয়ে আক্রমণ করে। আমরা আহত অবস্থায় কোনরকমে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করি। এ ঘটনায় আমিসহ আরো ৩ বন্ধু আহত হয়ে মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি।

মেসের কর্মরত শিউলী বেগম বলেন, এই মেয়ে দেরী করে রুমে আসে। অনেক সময় রাত ১২ টায় মেসে আসে। সেই মেয়ে আমাদের সাথেও অনেক খারাপ ব্যবহার করে। এ ছাড়া ইসলাম ভাইরে তার বন্ধুরা মেরেছে। 

মেসের কেয়ারটেকার ইসলাম জোয়াদ্দার বলেন, ওই ছেলে আগেও একবার এসে হম্বিতম্বি করে গেছে। আমি তাকে অফিসে বসে ঠান্ডা ভাবে কথা বলতে বললে ওই ছেলে বলে তুমি মুরুব্বী, মুরুব্বীর মতো থাকো নইলে মাইর খাবানে। পরে আমি তাকে জোর করে মেস থেকে বের করে দেই। আছরের নামাজের পরে এই ঘটনা ঘটে, পরে সন্ধ্যার দিকে লোকজন নিয়ে এসে মারামারি করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর রেজাউল করিম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকার মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়। সেই মেয়ের সমস্যা হলে মেস মালিককে বিষয়টি জানাতো। কিন্তু সে এটা না করে তার বন্ধুদের ডেকে এনেছে। শিক্ষার্থীদের কারণে অনেক সময় এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। তার বন্ধুরা এখানে মাস্তানি দেখাতে এসেছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

রামচন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস আই তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মিটমাট করেছি। এখানে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিলো আমরা সবাইকে শান্ত থাকতে বলেছি। যদি কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায় তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে আমি লোকাল থানায় ইনফর্ম করে পুলিশ পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে পুলিশ স্থানীয়দের সাথে কথা বলে বিষয়টি আপাতত মিটমাট করেছে। তবে এখানে আমাদের ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি সার্বিক বিষয়ে আমরা আগামীকাল সকাল ১১ টায় মেস মালিক এবং প্রশাসনের সবাইকে নিয়ে মিটিং এ বসবো।

Link copied!