সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫, ১২:৫৭ এএম

শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের নিরাপত্তায় বাকৃৃবিতে সেনাবাহিনী-বিজিবি টহল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১, ২০২৫, ১২:৫৭ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবস্থানরত সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি। ছবি - রূপালী ফটো

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবস্থানরত সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি। ছবি - রূপালী ফটো

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবরুদ্ধ দুইশো শিক্ষক-কর্মকর্তাকে উদ্ধারে হামলা চালিয়েছে বহিরাগতরা। এতে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল ৯টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রবিবার (৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে। র‍্যাবের সদস্যরা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থান করলেও সেনাবাহিনী ও বিজিবি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মুত্র জানায়, ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশু পালন অনুষদের শিক্ষার্থীরা প্রায় এক মাস ধরে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন করছেন। দুই অনুষদের ডিগ্রিকে একীভূত করে একটি কম্বাইন্ড ডিগ্রি দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ বিষয়ে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

রবিবার (৩১ আগস্ট) একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় দুপুর একটার দিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে উপাচার্যসহ প্রায় দুইশো শিক্ষক-কর্মকর্তাকে আটকে রেখে সামনে তালা মেরে দেন শিক্ষার্থীরা।

বিষয়টি সমাধানে ছুটে যান জেলা প্রশাসক মফিদুল আলম, জেলা পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তবে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের পাশ থেকে ২৫০- ৩০০ জন বহিরাগত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে অবরুদ্ধ শিক্ষকরা বেরিয়ে যান। এসময় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন।

ছবি - রূপালী ফটো

হামলায় আহত স্থানীয় দৈনিক ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আনিসুর রহমান ফারুক বলেন, ‘সন্ধ্যার পর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপার যখন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বোঝাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বহিরাগত ২৫০-৩০০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। পরে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে শিক্ষকরা বেরিয়ে যান। এসময় প্রশাসনের লোকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমিও রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় একজন এসে আমার গায়ে আঘাত করে। এতে রক্তাক্ত জখম হই।’

আহত আঙ্গর টিভির সাংবাদিক সালমান সাদিক শাওন বলেন, ‘হঠাৎ করে এমন হামলা হবে বুঝতে পারিনি। হামলাকারীরা আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে।’

ভেটেরিনারি অনুষদের অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু ছেলে পেলে এসে তালা ভেঙে দিলে আমরা বের হই। কিন্তু এটা কোনো সমাধান নয়। আমরা চাই বিষয়টির সুষ্ঠু সুরাহা হোক। বেশির ভাগ শিক্ষক সমন্বিত ডিগ্রির পক্ষে কিন্তু গুটিকয়েক শিক্ষকের কারণে এই অবস্থা।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে, কিন্তু আজকে দুপুর থেকে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এক পর্যায়ে কিছু লোকজন শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে তাদের উদ্ধার করে। এনিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছি।’

আহত শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেয়ার সময়। ছবি - রূপালী ফটো

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল আলীম বলেন, ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সকল ছাত্র-ছাত্রীদের আগামীকাল (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাস এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‍্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!