প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থী প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হয়েছে। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৭টি নির্দেশনা মানতেই হবে নির্বাচিত প্রার্থীদের। এরমধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ সংগ্রহ (ডোপ টেস্ট), পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং সব মূল ডকুমেন্ট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া। তবে নির্দেশনা অমান্য করলে বা যেকোনো তথ্য গোপন করলে নিয়োগ বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) একে মোহাম্মদ সামছুল আহসান রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ২২ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের কাছ থেকে স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ ও ডোপটেস্ট রিপোর্ট সংগ্রহ করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে সব মূল সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন কপি পূরণ করা পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম, স্বাস্থ্যসনদ ও প্রয়োজনে কোটার সনদসহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে ডকুমেন্ট যাচাই করাতে হবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রার্থীর স্বাস্থ্যসনদে দৈহিক বৈকল্য বা নিয়োগের অনুপযোগিতা উল্লেখ থাকবে বা যারা নির্ধারিত সময়ে ডকুমেন্ট জমা দিতে বা উপস্থিত হতে ব্যর্থ হবেন, তাদের নিয়োগ বিবেচনা করা হবে না। পুলিশ ভেরিফিকেশনে কোনো প্রার্থীর সন্তোষজনক তথ্য না পাওয়া গেলে বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের প্রমাণ মিললে তিনিও বাতিল বলে গণ্য হবেন। একইসঙ্গে কোনো প্রার্থী ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তাকেও বাতিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নির্দেশনাগুলো হলো :
১. প্রার্থীদের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুসরণপূর্বক উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রার্থী নির্বাচন করে তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
২. প্রকাশিত ফলের কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের ভুল-ভ্রান্তি/ত্রুটি-বিচ্যুতি/মুদ্রণজনিত ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধন করার বা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট ফল বাতিল/সংশোধন করার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
৩. নির্বাচিত কোনো প্রার্থী কোনো ধরনের ভুল তথ্য প্রদান করেছেন কিংবা কোনো তথ্য গোপন করেছেন মর্মে প্রতীয়মান/প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ তার ঘোষিত ফল বা নির্বাচন বাতিল করতে পারবে।
৪. নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ/প্রত্যয়ন ও ডোপটেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করতে হবে। স্বাস্থ্যগত সনদে প্রার্থী উল্লিখিত পদে নিয়োগযোগ্য নয় মর্মে উল্লেখ থাকলে তিনি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না।
৫. নির্বাচিত প্রার্থীদের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ ২০২৬ তারিখের মধ্যে পরিচিতি প্রতিপাদন ও সব ডকুমেন্টস যাচাইয়ের নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ (সব সনদের মূলকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, তিন কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জন কর্তৃক প্রদত্ত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ/প্রত্যয়ন এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটার সনদসহ সশরীর উপস্থিত হতে হবে।
৬. কোনো প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টে পূর্ব কার্যকলাপ সন্তোষজনক না হলে কিংবা নাশকতা/সন্ত্রাসী/জঙ্গি কার্যক্রম–সংশ্লিষ্ট কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কার্যক্রমে লিপ্ত ছিলেন মর্মে প্রমাণ পাওয়া গেলে তিনি চাকরিতে অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হবেন।
৭. প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওপরের ঘ ও ঙ অনুচ্ছেদে বর্ণিত স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ প্রদান, সব মূল সনদসহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে উপস্থিত হতে না পারলে এবং পূরণকৃত পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম প্রদানে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে তিনি নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন না।
এর আগে, রোববার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্বখাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। গত ৫ ও ১২ নভেম্বর বিজ্ঞাপনের আলোকে ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা বাদে) লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ভিত্তিতে ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের উপজেলাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে।
প্রার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট dpe.gov.bd অথবা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd-এ লগইন করে তাদের ফল (Check Result by Roll Number) দেখতে পারবেন। এ ছাড়া উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মোবাইলে টেলিটকের মাধ্যমে এসএমএস (Primary Result SMS Notification) পাঠিয়েও জানিয়ে দেওয়া হবে।


