ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঘুমের আগে দুধ ও গুড়: এক মাস খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসবে

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম
ছবি- সংগৃহীত

অনেকের কাছেই রাতের রুটিনে ঘুমের আগে এক গ্লাস গরম দুধে গুড় মেশানো যেন আরামদায়ক রীতিতে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস শুধু স্বাদ বা ঐতিহ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শরীর ও মনের নানা উপকারও। সহজলভ্য দুটি উপাদান: দুধ ও গুড় নিয়মিত একসঙ্গে খেলে শরীরে ধীরে ধীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটানা এক মাস রাতে দুধ ও গুড় পান করলে যেসব উপকার মিলতে পারে, তা তুলে ধরা হলো।

ঘুমের মান উন্নত হতে পারে

গরম দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান নামের অ্যামাইনো অ্যাসিড মেলাটোনিন হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। এই হরমোন ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুধে গুড় যোগ করলে শরীর আরও সহজে শিথিল হয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় না এবং গভীর ঘুমের অভিজ্ঞতাও বাড়তে পারে।

হজমে স্বস্তি, পেট ফাঁপা কমে

গুড় হজমের জন্য উপকারী হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত। এটি পাচক রসের নিঃসরণে সহায়তা করে। গরম দুধের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে পেটের অস্বস্তি কমতে পারে এবং খাবার হজম সহজ হয়। বিশেষ করে রাতে খাবারের পর যারা পেট ফাঁপা বা ভারীভাব অনুভব করেন, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

শক্তি ও আয়রনের সামান্য জোগান

গুড়ে প্রাকৃতিকভাবে কিছু আয়রন ও খনিজ উপাদান থাকে। যদিও এটি আয়রনের ঘাটতির চিকিৎসা নয়, তবে নিয়মিত গ্রহণে শরীরের শক্তি ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। এক মাস ধরে এই পানীয় খেলে ক্লান্তি কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক

উষ্ণ পানীয় সাধারণত স্নায়ুকে শান্ত করে। দুধে থাকা বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন মেজাজ ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। রাতে দুধ ও গুড় একসঙ্গে খেলে মানসিক প্রশান্তি আসে, দিনের চাপ কিছুটা হলেও কমে। ফলে মন শান্ত থাকে এবং ঘুমও ভালো হয়।

ত্বকের যত্ন ভেতর থেকে

গুড়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং দুধের প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বকের পুষ্টিতে সহায়তা করে। নিয়মিত এই পানীয় গ্রহণ করলে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকতে পারে এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বাড়তে সাহায্য করে। যদিও এটি কোনো প্রসাধনী নয়, তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ত্বকের জন্য সহায়ক হতে পারে।

মনে রাখবেন

দুধ ও গুড়ের এই অভ্যাস উপকারী হলেও অতিরিক্ত গুড় ব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা ওজনজনিত সমস্যায় ভুগলে। মাঝারি পরিমাণে এবং নিয়ম মেনে খেলে তবেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত উপকার।