প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মস্তিষ্কের ওপর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করলে মানুষ সাময়িকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মানুষের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা ও অধ্যবসায় কমিয়ে দিচ্ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘এআই অ্যাসিস্ট্যান্স রিডিউসেস পারসিস্টেন্স অ্যান্ড হার্টস ইন্ডিপেনডেন্ট পারফরম্যান্স’ শীর্ষক এক গবেষণাপত্রে এ তথ্য উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের একদল গবেষকের করা এই গবেষণায় দেখা গেছে, এআই-এর সহায়তা মানুষকে মানসিকভাবে অলস করে তুলছে। গবেষকরা একে বলছেন ‘ভারী কগনিটিভ মূল্য’ বা মস্তিষ্কের চিন্তা-ক্ষমতার চড়া দাম।
বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে যারা অতিমাত্রায় এআই নির্ভর হয়ে পড়ছেন, তাদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
গবেষণাটি ১ হাজার ২২২ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর একাধিক ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। এতে দেখা যায়, মাত্র ১০ মিনিট এআই ব্যবহার করার পরই অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভরতা তৈরি হয়। পরীক্ষার মাঝপথে যখন এআই-এর সহায়তা সরিয়ে নেওয়া হয়, তখন ব্যবহারকারীদের সঠিক উত্তর দেওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ওপেনএআই-এর জিপিটি-৫ ভিত্তিক চ্যাটবটের সহায়তা নিয়ে গাণিতিক সমস্যা সমাধান করছিলেন, সহায়তা বন্ধ করার পর তারা শুধু ভুল উত্তরই দেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধানের চেষ্টাই ছেড়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ, নিজে থেকে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার যে মানসিক শক্তি বা ধৈর্য, তা এআই ব্যবহারের ফলে হ্রাস পেয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সহকারী অধ্যাপক ও গবেষণার অন্যতম সহলেখক রচিত দুবে বলেন, এআই সরিয়ে নেওয়ার পর মানুষ চেষ্টা করার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলছে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে জানান, শিক্ষা খাতে দ্রুত এআই নির্ভরতা তৈরি হলে এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠতে পারে, যারা নিজেদের আসল সক্ষমতা সম্পর্কে সচেতন হবে না। এতে মানুষের সহজাত সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন