কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ধীরে ধীরে এটি ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও জায়গা করে নিচ্ছে। বিশেষ করে জেন-জি ও মিলেনিয়াল প্রজন্মের মধ্যে এআই ব্যবহার করে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং সঞ্চয় বাড়ানোর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।
এর একটি উদাহরণ কানাডার অন্টারিওভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা তাকি ওং। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা ব্যস্ত পেশাজীবীদের জন্য এআই টুল তৈরি করলেও নিজের ব্যক্তিগত অর্থ পরিচালনায়ও তিনি এআইয়ের ওপর ভরসা রাখছেন।
তাকি ওং জানান, গুগলের জেমিনি এআই মডেলকে তিনি নিজের ‘২৪ ঘণ্টার ব্যক্তিগত আর্থিক উপদেষ্টা’ হিসেবে ব্যবহার করেন। প্রতি মাসে নিজের ক্রেডিট কার্ড ও অন্যান্য খরচের হিসাব তিনি নিজেই এআইয়ে ইনপুট দেন। এরপর এআই সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন খাতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে দেয়।
ওংয়ের ভাষায়, কখনো এআই তাকে সতর্ক করে দেয়— রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচ বেশি হয়ে যাচ্ছে। আবার কখনো অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বাতিলের পরামর্শ দেয়। এই বিশ্লেষণের ফলেই তিনি বাইরে খাওয়ার মাসিক খরচ ৬০০ ডলার থেকে কমিয়ে ২০০ ডলারে নামাতে পেরেছেন। একইভাবে টিভি ও অন্যান্য সাবস্ক্রিপশনে ব্যয় ৩০০ ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫০ ডলারে।
তবে এআই ব্যবহারে সতর্কতাও অবলম্বন করছেন ওং। তিনি জানান, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কখনোই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সরাসরি এআইয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন না। বরং কেবল মোট খরচ বা সামগ্রিক তথ্যই শেয়ার করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা শুধু একজন উদ্যোক্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে এআই ব্যবহারকারী মানুষের বড় একটি অংশ আর্থিক পরামর্শ নিতে এআইয়ের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে জেন–জি ও মিলেনিয়ালদের হার ৮২ শতাংশ। যুক্তরাজ্যেও প্রায় তিনজনের একজন নিয়মিত ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনায় এআই ব্যবহার করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময় বাঁচাতে ও খরচের দুর্বল জায়গা চিহ্নিত করতে এআই কার্যকর সহায়ক হতে পারে। তবে সব পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য শেয়ার করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে মনে করছেন তাঁরা।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন