ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ঈদে কোন অঞ্চলের মানুষ কী দিয়ে আপ্যায়ন করে?

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৮, ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ঈদ মানে খুশি-আনন্দ, ইদ মানে যেন নিজের ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়া। ঈদুল আজহায় অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব অঞ্চলে মাংসভিত্তিক কমন খাবার (ভুনা, কালাভুনা, কাবাব ইত্যাদি) বেশি, অন্যদিকে ঈদুল ফিতরে মিষ্টি ও দুধজাত খাবারের আধিক্য থাকলেও অঞ্চলভেদে খাবার আপ্যায়নে পার্থক্য থাকে। উত্তরবঙ্গে ফিরনি জনপ্রিয়, ঢাকায় কাবাব-বিরিয়ানি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ভাত-রুটির সাথে মাংসের ভারী আয়োজন চলে।

অঞ্চলভেদে ঈদের জনপ্রিয় খাবার

পুরান ঢাকা ও আধুনিক শহুরে অঞ্চল:
সকালের শুরুতে ফিরনি/সেমাই, এরপর কাবাব, নানরুটি, বিরিয়ানি এবং গরুর রেজালা প্রধান খাবার।ঈদুল ফিতরে সকালে মিষ্টি দিয়ে শুরু, তারপর ভারী দাওয়াতি খাবার—এটাই পুরান ঢাকা ও শহরের সাধারণ চিত্র। অনেক পরিবারে অতিথি আপ্যায়নে কাচ্চি + জর্দা + ফিরনি প্রায় বাধ্যতামূলক।

উত্তরবঙ্গ (নওগাঁ, বগুড়া): 
উত্তরবঙ্গে ঈদে পোলাও, বিরিয়ানি ও ফিরনি-সেমাইয়ের পাশাপাশি হাঁসের মাংসের বিশেষ আয়োজন থাকে। ঈদের দিন সকালে বগুড়ার প্রতিটি ঘরেই কমবেশি চিকন সেমাই বানানো হয়। কোনোটায় দুধ ছাড়া শুধু ঘিয়ে ভেজে বাদাম কিশমিশ সহযোগে, আবার কোনোটায় দুধ দিয়ে ঘন ঘন করে। বোরহানি এবং বিভিন্ন রকমের পিঠাও থাকে।

খুলনা:
খুলনা অঞ্চলে ঈদের নামাজের আগে-পরে ঘরে ঘরে সেমাই-ফিরনি খাওয়ার প্রচলন আছে। এ ছাড়া পোলাও, গরুর মাংস, বিরিয়ানি এসবই রান্না হয়। পাশাপাশি ঘরে ঘরে বিশেষভাবে খাওয়া হয় চটপটি।

চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় অঞ্চল: 
চট্টগ্রাম অঞ্চলে ঈদের দিনের জনপ্রিয় একটি খাবার চালের রুটি দিয়ে গরুর মাংস। ঈদের দিন চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি বাসায়ই চালের রুটির বানানো হয়। চট্টগ্রামের মানুষ ভাত বা রুটির সাথে মাংসের ভুনা, বিশেষ তৈলাক্ত মাছের তরকারি, ঝালজাতীয় খাবার পছন্দ করেন, এবং মিষ্টির মধ্যে সেমাই/ফিরনি পছন্দ করেন। 

রাজশাহী:
রাজশাহীতে গরুর মাংস এবং পোলাওয়ের পাশাপাশি হরেকরকম স্থানীয় খাবারের আয়োজন থাকে। যেমন- কালাই রুটি ও ভর্তা, বট (গরুর ভুঁড়ি ভাজা) এবং পরোটা, কালাভুনা, হাঁসের মাংস, খিচুড়ি এবং মাংসের টিকিয়া।

বরিশাল: 
বরিশালে ঈদে মলিদা এবং নারকেল চিংড়ি দারুণ জনপ্রিয়। 

সিলেট:
সিলেটের মানুষ পপ (পুলিপিঠা জাতীয়), হান্দেশ (পুয়া পিঠা জাতীয়) এবং মাংস দিয়ে তৈরি পিঠা খান ঈদে।

নরসিংদী:
অতিথি আপ্যায়ন ও খাতির মানে নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী হাতের তৈরি সেমাই। স্থানীয়ভাবে এটি সেয়ই নামেও পরিচিত। এটি তৈরি করে সঙ্গে সঙ্গে রান্না করে খাওয়া যায়। তবে কেউ চাইলে রোদে শুকিয়েও রাখতে পারেন। 


ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের মানুষ ঈদে পায়েস, সেমাই, ফিরনির পাশাপাশি সোয়াই, সন্দেশ, ডিমের প্রোটিন এবং চটপটি খান।

বাগেরহাটে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি জর্দা, লাচ্ছি, ফিরনি, চটপটি এবং হালিম খাওয়ার প্রচলন আছে।

বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরের ঈদ উৎযাপন এবং ঈদের দিনের খাবারের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে, তবে কিছু কিছু খাবার দুই স্থানেই হয়।