ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ম্যাজিক্যাল উপকারিতা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ৩০, ২০২৬, ০১:০২ পিএম
প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ম্যাজিক্যাল উপকারিতা। ছবি : সংগৃহীত

ভোজনরসিক বাঙালির খাদ্যতালিকায় রিচ ফুড বা মসলাযুক্ত খাবারের আধিক্য সবসময়ই থাকে। ফলে গ্যাস, অম্বল বা বদহজমের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামি ওষুধের চেয়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ‘টক দই’ অনেক বেশি কার্যকর। পুষ্টিবিদদের মতে, টক দই শুধু খাবার নয়, এটি হজম প্রক্রিয়ার একটি শক্তিশালী ‘প্রাকৃতিক ওষুধ’।

প্রতিদিন টক দই খাওয়ার ৫টি ম্যাজিক্যাল উপকারিতা: 

১. প্রোবায়োটিকের পাওয়ারহাউস
টক দইয়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ল্যাকটোব্যাসিলাস নামক উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘প্রোবায়োটিক’ বলা হয়। এই ব্যাকটেরিয়া আমাদের অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখে।

২. আইবিএস (IBS) নিরাময়ে কার্যকর
যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএসের সমস্যা আছে, তাদের জন্য টক দই মহৌষধ। এটি পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করে।

৩. ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের সমাধান
অনেকেই দুধ খেলে হজম করতে পারেন না, যাকে ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ বলা হয়। টক দই তৈরির সময় দুধের ল্যাকটোজ ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত হয়, যা শরীরে খুব সহজেই শোষিত হয় এবং দুধের পুষ্টি নিশ্চিত করে।

৪. মেটাবলিজম বৃদ্ধি ও ওজন নিয়ন্ত্রণ
টক দই শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হার বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা ক্যালসিয়াম কোষে চর্বি জমতে বাধা দেয়, ফলে হজম ভালো হওয়ার পাশাপাশি শরীরের বাড়তি ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫. অম্লতা বা এসিডিটি দূর করা
অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর টক দই খেলে পেটের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এসিডিটির জ্বালাপোড়া কমে যায়। এটি পাকস্থলীর পিএইচ (pH) লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

কখন খাবেন?

দুপুরের খাবারের পর টক দই খাওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। তবে রাতে বা খালি পেটে টক দই না খাওয়াই ভালো, এতে অনেকের সর্দি বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। চিনি ছাড়া টক দই শরীরের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।