ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রাতের খাবার ও ঘুমের সঠিক সময় কোনটি? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
রাতের খাবার ও ঘুমের সঠিক সময়। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা আধুনিক ব্যস্ত জীবনে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অনেকেই কাজের চাপে অনেক রাতে খাবার খান এবং খেয়েই সরাসরি বিছানায় চলে যান। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও পুষ্টিবিদদের মতে, এই অনিয়ম দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সুস্থ থাকতে রাতের খাবার ও ঘুমের সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যবধান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

রাতের খাবার কখন হওয়া উচিত? গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমানোর অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করা সবচেয়ে আদর্শ। সাধারণত সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী।

কেন আগে খাওয়া জরুরি?

হজম প্রক্রিয়া: তাড়াতাড়ি খেলে ঘুমানোর আগে শরীর খাবার হজম করার পর্যাপ্ত সময় পায়। এতে অ্যাসিডিটি বা বদহজমের ঝুঁকি কমে।

বিপাক হার (Metabolism): সূর্যাস্তের পর শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। আগে খাবার খেলে ক্যালরি দ্রুত বার্ন হয়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ: রাতে দেরি করে ভারী খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

ঘুমের সঠিক সময় ও প্রয়োজনীয়তা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম অপরিহার্য। শরীরকে পুনর্গঠিত করতে এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সচল রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমের বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া এবং ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে জেগে ওঠা শরীরের ‘বায়োলজিক্যাল ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমের জন্য সবচেয়ে ভালো।

খাবার ও ঘুমের মধ্যে ব্যবধান না থাকলে যা হতে পারে:
১. স্থুলতা: খেয়েই ঘুমিয়ে পড়লে খাবার শরীরের চর্বি হিসেবে জমা হয়।

২. নিদ্রাহীনতা: পেট ভরা থাকলে শরীর হজমে ব্যস্ত থাকে, ফলে গভীর ঘুম ব্যাহত হয়।

৩. হার্টের সমস্যা: দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্টদের মতে, যারা রাত ১১টায় ঘুমান, তাদের অবশ্যই রাত ৮টার মধ্যে খাবার শেষ করা উচিত। যদি কোনো কারণে দেরি হয়ে যায়, তবে খুব হালকা খাবার (যেমন- স্যুপ বা অল্প প্রোটিন) গ্রহণ করা এবং খাওয়ার পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট হালকা হাঁটাচলা করা উচিত।

মনে রাখবেন: “আর্লি টু বেড অ্যান্ড আর্লি টু রাইজ”, এই পুরোনো প্রবাদটি কেবল কথার কথা নয়, এটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের বৈজ্ঞানিক সূত্র।