অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে বড় পরিসরের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্র পরিবারের নারী প্রধানদের প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থ বিভাগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের রূপরেখা ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন এবং পরিবার ও সমাজে তাদের সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির যে সক্ষমতা রয়েছে, তাকে কাজে লাগিয়ে এমন একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া সত্যিই একটি সাহসী পদক্ষেপ। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ করা হচ্ছে না বলে সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়ভাবে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের এই কার্ড দেওয়া হবে। তবে ক্রমান্বয়ে দেশের প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
অতীতে বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা বা সহায়তা বিতরণের সময় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখা হয়নি বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সহায়তার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছাবে। মাসে আড়াই হাজার টাকার এই সহায়তা একজন হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রাত্যহিক সংসার পরিচালনায় বড় ধরনের সাহস জোগাবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মানে অভাবনীয় পরিবর্তন আনবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পটি জাতীয় বাজেটেরও একটি বড় অংশজুড়ে থাকবে বলে ইঙ্গিত দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, আগামীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এই প্রকল্পের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন